সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের শর্তসাপেক্ষে আবার শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিল করে সংশোধনী বিল পাসের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিলটি সংশোধিত আকারে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন সংশোধন বিলটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়। কমিটির সদস্য ও জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন জানান, বৈঠকের এজেন্ডায় মূলত ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের বিষয়টিই ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর পুরোনো ও বিতর্কিত মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিধান আইনে যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে সমালোচনা হয়। বিরোধী দল ছাড়াও উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশোধনী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইনটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের শর্তের সঙ্গেও বিষয়টি যুক্ত রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তিনি পুরো ব্যাংক রেজল্যুশন আইন পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
দেশের আর্থিক খাতের পরিস্থিতি নাজুক উল্লেখ করে তিনি সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়বে।
এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সম্পদ ও দায়বদ্ধতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।