জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে কেউ নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করলে তা মোকাবিলায় সাড়ে ১৫ বছর সময় লাগবে না। তিনি বলেন, যারা এমন চেষ্টা করবে, তাদের সম্পর্কে তারা অবগত এবং প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে দেশের মানুষকে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এ সময়ে সাড়ে তিন হাজারের কম মানুষ প্রাণ হারাননি এবং শুধু জুলাই আন্দোলনেই ১ হাজার ৪০০ এর বেশি মানুষ জীবন দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিল, তখন সরকারের অনুমতি নিয়ে কয়েকজন মানুষ রাস্তায় নামানোর সাহসও অনেকে দেখাতে পারেনি। এখন তারাই বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
পথসভায় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারি দলের কেউ নির্যাতন বা নিপীড়ন চালালে তারা নীরব থাকবেন না। তিনি বলেন, ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও ১১ দলের কোনো নেতাকর্মীর ওপর হামলা হলে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, লংমার্চ থেকে তাদের স্পষ্ট দাবি হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান। জনগণ দুর্নীতির জন্য কাউকে ক্ষমতায় বসায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রীরা দুর্নীতি করবেন আর সাধারণ মানুষের ঘরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ থাকবে না, এমন পরিস্থিতি তারা মেনে নেবেন না।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়লেও তার আমলের মতো করে দেশ পরিচালনার পরিস্থিতি তারা হতে দেবেন না। এ কারণে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অলি আহমদ বলেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমান আন্দোলনের ডাক দিলে নেতাকর্মীদের ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নামতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, গ্যাস কার্ড, বিদ্যুৎ কার্ড ও সার কার্ড দেওয়ার কথা বলেছে। তবে জনগণের সবচেয়ে বড় কার্ড হলো লাল কার্ড। ভোটাধিকার নিয়ে তামাশা করা বা গণভোটের রায় অকার্যকর করার চেষ্টা হলে জনগণ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া পথসভাটি প্রায় এক ঘণ্টা পর শেষ হয়। এরপর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথসভায় ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালি উল্যাহ মানিকসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।