ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ায় ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের সারিয়ান ডিভিশনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বায়ুদূষণের মাত্রা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয় জানিয়েছে, সারিয়ান ডিভিশনে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম। সারাওয়াক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জরুরি অবস্থার আওতায় আগামী সোমবার থেকে সারিয়ানের ৬৪৭টি স্কুল বন্ধ থাকবে। অন্তত আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, বাগান, নির্মাণকাজ এবং পাথর উত্তোলনের কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে। তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো চালু থাকবে।
ধোঁয়াশা কমাতে বৃহস্পতিবার থেকে সারাওয়াকে তিন দিনের ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনুকূল মেঘ তৈরির সম্ভাবনা থাকায় সোমবার পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
সারাওয়াক স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ডগলাস উগাহ এমবাস জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থা পুরো সারাওয়াক রাজ্যে নয়, শুধু সারিয়ান ডিভিশনে কার্যকর হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইরে চলাচল কমানোর পাশাপাশি খোলা জায়গায় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বোর্নিও দ্বীপের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সারাওয়াক কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘন ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন। এর প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী সাবাহ রাজ্য এবং মালয়েশিয়ার উপদ্বীপীয় অংশের কয়েকটি এলাকাতেও।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান ও সুমাত্রাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দাবানল থেকেই আন্তঃসীমান্ত ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি দাবানলের কারণে ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনেও এর প্রভাব দেখা দিয়েছে।
সিঙ্গাপুরে বায়ুমানের অবনতি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটিতে ২৪ ঘণ্টার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছানোর পর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে প্রতিদিন ধোঁয়াশার পূর্বাভাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের পর এবারই প্রথম এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
ফিলিপাইনেও ধোঁয়াশার কারণে রাজধানী ম্যানিলাসহ ১২টির বেশি প্রদেশে শুক্রবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, চলতি মাসে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল আরও তীব্র হয়ে আন্তঃসীমান্ত ধোঁয়াশা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।