ফসলকে রোগবালাই ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর সঠিক প্রয়োগ হার সম্পর্কে কৃষকদের জানানো অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা কম কীটনাশক ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না, বরং ফসল, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অনেক কৃষক অভিজ্ঞতা বা অনুমানের ভিত্তিতে কীটনাশক ব্যবহার করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করা হয় না। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসলে রাসায়নিক অবশিষ্টাংশের পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিটি কীটনাশকের জন্য নির্দিষ্ট প্রয়োগ হার ও ব্যবহারবিধি রয়েছে। ফসলের ধরন, আক্রান্ত রোগ বা পোকামাকড়ের প্রকৃতি এবং জমির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তাই কৃষকদের অবশ্যই পণ্যের লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করা অথবা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করলে উপকারী পোকামাকড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে মাটি ও পানির গুণগত মানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এটি পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে পরামর্শ সেবা জোরদার করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে কীটনাশকের সঠিক প্রয়োগ হার ও নিরাপদ ব্যবহারবিধি আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এ ছাড়া কীটনাশক প্রয়োগের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ না করার বিষয়েও কৃষকদের সচেতন করা প্রয়োজন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা সহজ হবে।
টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য কীটনাশকের দায়িত্বশীল ব্যবহার অপরিহার্য। তাই কৃষকদের কাছে সঠিক প্রয়োগ হার ও ব্যবহারবিধি পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন ।
ডেস্ক রিপোর্ট