২০২৫ সালে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে সংঘটিত দুর্ঘটনায় প্রায় ৯ হাজার ৭৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছেন। শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৭২৯টি ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫৮ জন, আহত ১৩৯ জন এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে; ২ হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত ও ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭ শতাংশ।
২০২৫ সালের সড়ক দুর্ঘটনা ২০২৪ সালের তুলনায় ৬.৯৪ শতাংশ বেড়েছে। নিহতের সংখ্যা ৫.৭৯ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ১৪.৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে রয়েছেন চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী, শিশু, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পরিবহন শ্রমিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে চালক, পথচারী ও শিক্ষার্থীর মধ্যে।
সংগঠনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া এবং ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষও উল্লেখযোগ্য। দুর্ঘটনার বড় অংশ জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “ক্ষমতার পালাবদল হলেও সড়ক ব্যবস্থাপনার নীতিতে কার্যকর পরিবর্তন না আসায় দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যানজট ও চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, অথচ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।”
সংগঠনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা, পরিবহন খাত সংস্কার ও উন্নত গণপরিবহনের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তায় বাজেট বৃদ্ধির, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস ব্যবস্থায় সংস্কার এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট