সিঙ্গাপুর থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন ডা. আব্দুল আহাদ জানান, হাদির ব্রেইন ছাড়া অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কৃত্রিম সহায়তায় কাজ করলেও নিউরোলজিক্যাল কোনো উন্নতি এখনো দেখা যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে ভর্তির পর থেকেই তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিমে রাখা হয়েছে। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গেছে, তার মস্তিষ্কের বাম পাশের ইস্কেমিক পরিবর্তন এবং ইডেমা (ফোলা) অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ব্রেন স্টেমে আঘাতের ফলে ভেন্ট্রিকুলার সিস্টেমে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হওয়ায় চিকিৎসকরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
ওসমান হাদির ভাই ওমর সিঙ্গাপুর থেকে জানিয়েছেন, ব্রেইনের ভেতরে বুলেটের কিছু অংশ এখনো আটকে আছে। চিকিৎসকরা অপারেশনের প্রয়োজন বোধ করলেও বর্তমানে তার শরীর অস্ত্রোপচারের ধকল নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার কথা ভাবা হলেও শারীরিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ আকাশপথ পাড়ি দেওয়া এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। বর্তমানে তার কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যক্রম কৃত্রিম ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কের আঘাতের ক্ষেত্রে শরীর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেয় কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওসমান হাদির ক্ষেত্রে সেই ‘টাইম উইন্ডো’ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফুসফুসে জমে থাকা রক্ত ও শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতা নিরসনেও বিশেষ ব্যবস্থাপনা চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির জ্ঞান ফেরা বা অবস্থার উন্নতির বিষয়ে যে খবরগুলো ছড়িয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তার অবস্থা ‘স্ট্যাটিক’ বা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। ওসমান হাদির পরিবার ও সহকর্মীরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট