রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে আগ্রহী এবং দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে, কিন্তু নির্বাচনের পর আর বঙ্গভবনে থাকতে চান না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে তফসিল ঘোষণা করেন, যেখানে বলা হয় ৩০০ আসনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। তফসিল ঘোষণার অল্প সময় পর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগ–ইচ্ছার কথা জানান, যা কার্যত ত্রয়োদশ সংসদ প্রতিষ্ঠার পরই ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পর সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব নেন; তখন তিনি ৭৫ বছর বয়সী এবং পাঁচ বছরের জন্য মনোনীত হন। আইনজীবী পেশা থেকে ১৯৮২ সালে বিচার বিভাগে যোগ দেওয়া সাহাবুদ্দিন ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন; এরপর ২০০১ সালের সহিংসতার তদন্ত কমিশনের প্রধান, শেখ মুজিব হত্যা মামলার সমন্বয়কারী, দুদকের কমিশনার, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পর সংসদ ভেঙে যায় এবং সেই প্রেক্ষাপটে সাহাবুদ্দিন দেশের সর্বশেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কার্যত সংকট–পরবর্তী রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন। ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগ ও পরে যুবলীগের নেতৃত্বে থাকা ‘চুপ্পু’ নামে পরিচিত এই রাজনীতিক–বিচারক–রাজনীতিবিদের সাম্প্রতিক পদত্যাগ–ইঙ্গিত তাই চলমান রাজনৈতিক রূপান্তরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট