তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান শিশু সাজিদকে জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিশুটি সুস্থ থাকায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, কোয়েলহাট গ্রামের মাঠের পাশ দিয়ে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় দুর্ঘটনাক্রমে পরিত্যক্ত নলকূপের ওই গর্তে পড়ে যায় সাজিদ। শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে ছোট সন্তানকে কোলে নিয়ে মেজো ছেলে সাজিদের হাত ধরে তিনি বাড়ির পাশের মাঠে যাচ্ছিলেন। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ ‘মা’ বলে ডাক দেয়। পেছনে তাকিয়ে তিনি দেখেন, ছেলে নেই এবং গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছে। গর্তের ওপর খড় বিছানো থাকায় এটি যে একটি বিপদজনক গর্ত, তা মা কিংবা শিশু কেউই বুঝতে পারেনি।
শিশু সাজিদকে উদ্ধারে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট টানা প্রায় ৩১ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার অভিযানের ধাপে ধাপে কৌশল পরিবর্তন করতে হয়:
প্রাথমিক অনুসন্ধান: প্রথম পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস চার্জ ভিশন ক্যামেরা দিয়ে প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত অনুসন্ধান চালায়, কিন্তু শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
খনন ও সুড়ঙ্গ: এরপর নলকূপের পাশেই এস্কেভেটর দিয়ে রাতভর প্রায় ৩৫ ফুট গভীর বড় একটি গর্ত খনন করা হয়। সকালে সেই গর্ত থেকে নলকূপের দিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার চেষ্টা করা হলেও সেখানেও শিশুটির অবস্থান মেলেনি।
সর্বশেষ কৌশল: দ্বিতীয়বার নলকূপে ক্যামেরা নামানো হলে তাতে শুধু মাটি দেখা যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নতুন করে আবার খননের সিদ্ধান্ত নেন এবং এই কৌশলেই শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরখানেক আগে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ওই নলকূপ খোঁড়া হয়েছিল। পানি না ওঠায় মালিক সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে পড়লে নলকূপের মুখ আবারও উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং সেখানেই ঘটে এই দুর্ঘটনা।
দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর শিশু সাজিদকে জীবিত উদ্ধার করতে পারায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সকলকেই স্থানীয়রা ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট