বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে তানোরের পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে বিলের দিকে যাওয়ার সময় শিশু সাজিদ একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই প্রথমে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এসে নলকূপের ভেতরে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করে।
এরপর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আরও দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। প্রথমে সার্চ ভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান বোঝার চেষ্টা করা হয়। অবস্থান শনাক্ত না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে পাশেই এস্কেভেটর ব্যবহার করে রাতভর প্রায় ৩৫ ফুট গভীর খনন কাজ করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মো. মঞ্জিল হক জানান, ৩৫ ফুট পর্যন্ত খনন করেও শিশু সাজিদের কোনো সন্ধান মেলেনি। খননের পর গর্তে একটি পাইপ ঢোকানোর চেষ্টা করা হলেও নির্দিষ্ট গভীরতার পর তা আর নিচে নামছে না।
বর্তমানে উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ কৌশল সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, "শিশুটি যে গর্তে পড়ে গেছে তার পাশেই এস্কেভেটরের মাধ্যমে ৩৫ ফুট গভীর খনন করা হয়েছে। এখন ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ টিম খনন করা সেই গর্ত থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে শিশুটি যে নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে, সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করছে।" তিনি আরও বলেন, সুড়ঙ্গ করার পরও যদি শিশুটিকে পাওয়া না যায়, তাহলে খননকাজ আর সম্ভব হবে না এবং ওই গর্ত থেকেই অন্য কৌশলে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে, কারণ এই নলকূপটির গভীরতা ১৫০ থেকে ২০০ ফুট।
নলকূপের ভেতরে যেকোনো স্থানে শিশুটি আটকে থাকতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা ধারণা করছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট