পর্যাপ্ত উৎপাদন ও পুরোনো মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশের পেঁয়াজ বাজারে অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা সরকারি সংস্থা ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনের মতে মূলত সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কৃত্রিম সংকট ও কারসাজির ফল। উৎপাদন ও সরবরাহে বাস্তব ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ৭০–৮০ টাকা থেকে দ্রুত বেড়ে ১৫০–১৬০ টাকায় পৌঁছানোয় সাধারণ ক্রেতারা নাজেহাল, আর বাজার নজরদারির দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারে প্রচুর নতুন পেঁয়াজ আসার পূর্বাভাস রয়েছে, পাশাপাশি দেশে এখনো এক লাখ টনের বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত আছে বলে কৃষি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তা সত্ত্বেও একটি সিন্ডিকেট পুরোনো পেঁয়াজ ধরে রেখে সরবরাহ সীমিত করছে এবং আমদানির অনুমতির জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যদিও তাদের লক্ষ্য প্রকৃত আমদানি নয়, বরং পরিস্থিতিকে অজুহাত বানিয়ে বেশি মুনাফা নেওয়া।
ঢাকার কাওরান বাজার, নয়াবাজার, জিনজিরা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে দুই দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ৩০–৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ১৪০–১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে কয়েক সপ্তাহ আগেও একই পণ্য ৬০–৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাইকারি আড়তে পাঁচ কেজির পাল্লা পুরোনো পেঁয়াজ ৬০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি দাম ১২০ টাকার কমে নামছে না, ফলে ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয় হঠাৎ বেড়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতি নেই; বরং কিছু মজুতদার ও আড়তদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে সরকারের কাছে আমদানির অনুমতি আদায়ের চেষ্টা করছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) অভিযোগ করেছে, আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীরা মিলে পেঁয়াজ মজুত রেখে বাজারে না ছেড়ে জনস্বার্থবিরোধী মুনাফা করছেন এবং কার্যকর নজরদারি না থাকলে ভোক্তারা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কিছু মধ্যস্বত্বভোগী নানা কৌশলে বাজার অস্থির করছে এবং বর্তমান সময়ে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য ৯০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়, অথচ বাজারে তা ১১৫ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে, যা পাশের দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। কমিশন সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির সুপারিশ করলেও কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মৌসুমে আমদানি বাড়ালে স্থানীয় কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন না এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন নিরুৎসাহিত হতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট