ভূমি রেজিস্ট্রেশনে যুগান্তকারী সংস্কার: দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কত খরচ, জানুন অনলাইনে!
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৫-১২-২০২৫ ০১:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-১২-২০২৫ ০১:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে সরকার ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনতে চলেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তি দূর করা। নতুন নীতিমালায় জমির প্রকৃতি অনুসারে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করে তা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ যাতে দলিল তৈরির মোট ব্যয় (স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন ফি, আইটি চার্জসহ) সহজেই জানতে পারে, সেজন্য চালু হচ্ছে অনলাইন 'দলিল রেজিস্ট্রেশন ক্যালকুলেটর'। লাইসেন্সবিহীন দলিল লেখকদের দৌরাত্ম্য রুখতে ২০১৪ সালের লাইসেন্স বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা কোনো প্রকার অনিয়মের ক্ষেত্রে জেলা রেজিস্ট্রার বা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জানানোর সুযোগও থাকছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে জমির দলিল রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ ভূমি মালিকদের মধ্যে এক ধরণের অস্বচ্ছতা ও ভীতি কাজ করে আসছে। বিশেষ করে, দলিল লেখকদের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ফি দাবি, লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের অননুমোদিত কাজ এবং দালালদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল পুরোনো। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয় জনস্বার্থে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে জমির দলিল রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ ভূমি মালিকদের মধ্যে এক ধরণের অস্বচ্ছতা ও ভীতি কাজ করে আসছে। বিশেষ করে, দলিল লেখকদের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ফি দাবি, লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের অননুমোদিত কাজ এবং দালালদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল পুরোনো। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয় জনস্বার্থে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন সংস্কার অনুযায়ী, দলিল রেজিস্ট্রির মোট খরচ সম্পর্কে নাগরিকেরা যেন কোনো বিভ্রান্তিতে না ভোগে, তার জন্য প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, আইটি চার্জসহ যাবতীয় ব্যয়ের তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। এটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং ভূমি মালিকদের অপ্রত্যাশিত অর্থ ব্যয় থেকে রক্ষা করবে।
অনিবন্ধিত কাগজপত্র মালিকানার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক—এই বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সরকার সচেতনতা বৃদ্ধিতেও জোর দিচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল সংযোজন হলো 'দলিল রেজিস্ট্রেশন ক্যালকুলেটর'। এই অনলাইন টুলে জমির শ্রেণি, মৌজা, অবস্থান এবং পরিমাণ সম্পর্কিত তথ্য ইনপুট দিলেই সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব দেখিয়ে দেবে। এর ফলে দলিল লেখকদের মনোপলি এবং ফি নিয়ে অযৌক্তিক দাবির সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক নতুন নিয়ম লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন বা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন অথবা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন। সরকারের বিশ্বাস, এই পরিবর্তনগুলো শুধু ভূমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকেই সহজ ও স্বচ্ছ করবে না, বরং ভূমি-সংক্রান্ত প্রতারণা থেকেও জনগণকে সুরক্ষা দেবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।