বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দুই দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের সংযুক্ত আরব আমিরাত (যেমন দুবাই) হয়ে ভ্রমণ করতে হচ্ছিল, যা সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছিল।
হাইকমিশনার ইকবাল হুসাইন খান তার বক্তব্যে আঞ্চলিক সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিশাল হলেও সীমান্তনীতি, প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক রাজনীতির জটিলতা অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও উন্নত হতে পারত, কিন্তু সরাসরি যোগাযোগের অভাবই বর্তমানে প্রধান বাধা।
তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, একসময় রেলপথের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ছিল অত্যন্ত সহজ। কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তানের খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্য আঞ্চলিক বাজারে দুবাই হয়ে পৌঁছানোয় সময় ও ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, একসময় কাবুল, পেশোয়ার, ঢাকা থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত অঞ্চলগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল, অথচ আজ এই ভৌগোলিক সংযোগই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে, আশার কথা হলো এই আঞ্চলিক বাধা সত্ত্বেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখন সরাসরি ফ্লাইট চালুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফ্লাইট পরিচালনায় ভারতীয় আকাশপথ ব্যবহারের বিষয়ে হাইকমিশনারের আশ্বাস নিঃসন্দেহে এই প্রক্রিয়াকে গতি দেবে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে যে ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পাকিস্তানি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য আপাতত ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাইকমিশনার বিশ্বাস করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে। তার প্রত্যাশা, দক্ষিণ এশিয়ার সচেতন ও পরিবর্তনমুখী নতুন প্রজন্মের হাত ধরে ভবিষ্যতে পুরোনো জটিলতা দূর হবে, আঞ্চলিক সংযোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট