আদালতের বিশেষ নির্দেশনায় গত মঙ্গলবার রাতে এনবিআরের সিআইসি অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে থাকা দুটি ভল্ট বা লকার ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার জব্দ করে। সূত্র অনুযায়ী, জব্দকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ৮৩২.৫১ ভরি, যা লুটপাটের অর্থ দ্বারা কেনা বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়াও, রাষ্ট্রীয় তোষাখানায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা বহু বিদেশি উপহার সামগ্রীও লকার থেকে উদ্ধার করা হয়।
এই জব্দের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি অনানুষ্ঠানিক অডিও ক্লিপে শেখ হাসিনাকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। এই অডিওতে, তিনি স্বর্ণ জব্দ করার ঘটনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ও ক্ষোভ উগরে দেন এবং লকার ভাঙার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। জনগণের অর্থ লুটপাট ও গণহত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখা সাবেক এই সরকারপ্রধানের, সামান্য কিছু পারিবারিক সম্পদ উদ্ধারে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেশপ্রেমিক জনগণকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। নেটিজেনরা মন্তব্য করছেন, এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অবৈধ ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত এবং হাজারো মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী একজন নেত্রীর এমন 'মায়াকান্না' চরম হাস্যকর ও অমানবিক।
অডিও ক্লিপটিতে হাসিনা স্বীকার করেন যে লকারে স্বর্ণ ছিল, কিন্তু দাবি করেন তা তার দাদি, নানি, মা, ভাই কামাল ও জামালের স্ত্রী এবং পুতুলের (আত্মীয়) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গহনা। তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এই স্বর্ণ জমা রাখা হয়নি এবং তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কখনও অগ্রণী ব্যাংকের এই লকারে যাননি। তবে দেশজুড়ে জনশ্রুতি রয়েছে, অভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগের সময় শেখ হাসিনা বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন এবং দিল্লি পালানোর সময়ও তিনি হেলিকপ্টারে অর্থসম্পদ নিয়ে গেছেন। জব্দ করা এই স্বর্ণালংকার কোনো কারণে ফেলে যাওয়া সম্পদ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ) জনস্বার্থে ও জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বিবৃতি প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হলেও, কিছু গণমাধ্যম সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই বিতর্কিত অডিও ক্লিপটি প্রচার করেছে, যা দেশের সচেতন মহল ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট