গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এক সময়ে এই নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল আওয়ামী লীগের হাত ধরে, যেটি তৎকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনের বিতর্কের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধার কারণে জনসমর্থন হ্রাস পায় এবং দীর্ঘদিন পর ১৬ বছরের ব্যবধানে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
২০১১ সালে আপিল বিভাগের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর রাজপথে সক্রিয় হয় বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধীদল। ২০১৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বর্জন করে। ২০১৮ সালে তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, তবে ২০২৪ সালে পুনরায় বয়কট ঘোষণা করে। একই সময়ে রাজপথে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চলতে থাকে।
অবশেষে পুনঃস্থাপিত হলো কাঙ্ক্ষিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। এর ফলে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কার্যকর হবে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মন্তব্য করেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না হলে হয়তো বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদ পুনরায় প্রসারিত হতো। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফেরেছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “কাঠামো টেকসই না হলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাও ফ্যাসিবাদে রূপ নিতে পারে। সুতরাং একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা জরুরি।”
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এবং তার অধীনে নির্বাচন হওয়ায় জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দলীয় সরকার কার্যকর একটি ব্যবস্থা।” তিনি আরও যোগ করেন, “আদালতের কাছে মূল বিষয় হলো, এটি সাংবিধানিক মৌলিক কাঠামো কিনা। আমরা যুক্তি করেছি, হ্যাঁ, এটি মৌলিক কাঠামো এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।”
যদিও রাজনৈতিক দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে, তবু সরকারের রূপরেখা নিয়ে সবদলীয় ঐক্য এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার কিছু অংশে নোট অব ডিসেন্ট আছে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের।
বাংলাদেশে পুনর্স্থাপিত হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংবিধানে নতুন বিচারিক রায়
- আপলোড সময় : ২১-১১-২০২৫ ০৭:৪১:৫২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-১১-২০২৫ ০৭:৪১:৫২ অপরাহ্ন
ছবি সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট