আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনার স্বীকারোক্তি: ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চাইলেন সাবেক এসআই ও রাজসাক্ষী আবজালুল
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৯-১১-২০২৫ ১১:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-১১-২০২৫ ১১:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়টি লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাসহ জুলাই শহীদদের হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের সাবেক এসআই ও রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক। তিনি নিহতদের পরিবার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছেন, বিবেকের তাড়নায় কোনো চাপ বা প্রলোভন ছাড়াই সত্য প্রকাশে এগিয়ে এসেছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২–এ বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানো এবং সাতজনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন আবজালুল।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এ. এফ. এম. সায়েদ নিয়মিতভাবে এমপি সাইফুল ইসলামের নির্দেশ পেতেন। আন্দোলন দমনে গ্রেপ্তার অভিযান ও দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব ওসি সায়েদই বাস্তবায়ন করতেন। ৫ আগস্ট দুপুরে ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিল থানার দিকে এগোলে ওসির নির্দেশেই এএসআই বিশ্বজিৎসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলি করে, তাতেই কয়েকজন নিহত হন। পরে লাশগুলো ভ্যানে তুলে থানায় আনা হয়।
তিনি জানান, পরে জানতে পারেন সেই লাশগুলোতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ। এরপর তারা সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্টে চলে যান। ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
আবজালুল বলেন, ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিজ বাসায় লুকিয়ে থাকার পর থানায় গিয়ে নিজের দায়িত্বে থাকা পিস্তল ও গুলি জমা দেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিবেকের দায় মেনে তিনি রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন—যাতে সত্য উদঘাটন করে ‘জুলাই শহীদদের প্রতি ঋণ কিছুটা শোধ করতে পারেন’।
এই মামলায় তার আংশিক জেরা সম্পন্ন হয়েছে; আগামী বৃহস্পতিবার বাকি জেরা হবে।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার অপর মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী রোববার জেরার দিন নির্ধারণ করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি মনিরুল ইসলাম জবানবন্দিতে ৫ আগস্ট চানখারপুলের হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ তদন্ত বিবরণ আদালতে উপস্থাপন করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।