নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সার বিতরণ ব্যবস্থায় বিসিআইসি, বিএডিসি ও বেসরকারি আমদানিকারকদের সার বিতরণ একই কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। ডিলার ইউনিট—ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন—প্রতি এলাকায় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নিষিদ্ধ করা এবং অনিয়ন্ত্রিত সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা বাতিল করাই এই নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে একটি ডিলার ইউনিট গঠন করা হবে, যেখানে সর্বোচ্চ তিনজন ডিলার দায়িত্ব পাবেন। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কৃষিজমির পরিমাণ ও ফসলের নিবিড়তার ভিত্তিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুপারিশে ডিলার সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট জেলার উপপরিচালক জরিপ পরিচালনা করে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে প্রস্তাব জমা দেবেন।
ডিলারদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি ওয়ার্ডে খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় সুবিধাজনক স্থানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী খুচরা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাব-ডিলাররা পূর্বের নিয়মে সার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন, তবে এর পর তারা আর কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। ডিলারদেরও কৃষক ছাড়া অন্য কোনো খুচরা বিক্রেতার কাছে সার বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
উপজেলা ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে ইউনিটভিত্তিক ডিলার তালিকা ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে বলা হয়েছে। কোথাও শূন্য ইউনিট থাকলে সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করতে হবে।
নতুন নীতিমালার আওতায় ডিলারদের মধ্যে বিসিআইসি বা বিএডিসি—এই বিভাজন থাকছে না। সকল ডিলার সরকার অনুমোদিত চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া ও নন–ইউরিয়া সার সমানভাবে বরাদ্দ পাবেন।
নীতিমালাটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.moa.gov.bd এ প্রকাশ করা হয়েছে। নীতিমালা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা ব্যাখ্যায় অস্পষ্টতা থাকলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ০২-৫৫১০০৩৫১ বা ০২-৫৫১০০৪৯৫ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে জানা যাবে।
ডেস্ক রিপোর্ট