ইসলামে মেয়ের বিয়েতে বাবা বা অভিভাবকের অধিকার অক্ষুণ্ণ। মেয়ের বাবা জীবিত থাকলে তিনিই স্বাভাবিক অভিভাবক । অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোনো বিয়ে বৈধ হবে না। যদিও মেয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি বা উকিল বাপ নিয়োগ করা যায়, তবে সেটি বিশেষ পরিস্থিতিতেই সম্ভব।
শরিয়তের দৃষ্টিতে উকিল মানে হলো প্রতিনিধি বা মুখপাত্র, যে মেয়ের অভিভাবকের নির্দেশে বিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ বা সম্পন্ন করতে পারে। উকিল কখনোই বাবা হতে পারেন না এবং উকিল হওয়ার মাধ্যমে মেয়ের সঙ্গে কোনো আত্মীয়ত্ব তৈরি হয় না।
হাদিসে এসেছে:
«لَا نِكاحَ إِلّا بِوَلِيٍّ» – “বিনা অভিভাবকের অনুমতি কোনো বিয়ে সম্পন্ন হবে না।” (সহিহ মুসলিম)
«النكاحُ مَبْرُورٌ بِالْوَلِيِّ» – “বিয়ে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য হয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে বা অনুমতিতে।” (সুনান আবু দাউদ)
যদি গায়রে মাহরামদের কাউকে উকিল বানানো হয়, তাতেও তার অবস্থান পরিবর্তিত হবে না। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উকিলের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বও শেষ হয়ে যায়। মেয়েদের জন্য আজীবন উকিল বানানো বা সামাজিকতার দোহাই দিয়ে দেখা করা হারাম। প্রয়োজন ছাড়া উকিল নির্ধারণের রেওয়াজও পরিত্যাগ করা উচিত।
মোটকথা, মেয়ের বিয়েতে উকিলের দায়িত্ব শুধুমাত্র অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে প্রযোজ্য। বাবা বা অভিভাবকই মূল দায়িত্ব পালন করেন। উকিলের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি হয় না এবং মেয়ের অধিকার ও শরিয়তের বিধান বজায় থাকে। ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, উকিল ঠিকভাবে নির্ধারণ করা এবং অতিরিক্ত রেওয়াজ পরিত্যাগ করা নারীদের জন্য সর্বোত্তম।