আপনার হাতের স্মার্টফোনটি যে ১০টি জিনিসকে অবসরে পাঠিয়েছে
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সময়ের একটি স্মার্টফোন একাই যেন এক বহুমুখী প্রযুক্তি যন্ত্র। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি দখল করে নিয়েছে বহু একক যন্ত্রের জায়গা। একসময় আমাদের ব্যাগে বা ড্রয়ারে থাকা অনেক ডিভাইসই এখন স্মার্টফোনে ঠাঁই পেয়েছে। অন্তত এমন ১০টি ডিভাইস রয়েছে, যেগুলো আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করতেন, কিন্তু এখন আর আলাদা করে প্রয়োজন হয় না—কারণ স্মার্টফোন নিমিষেই সেসব কাজ সেরে ফেলছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০১
ক্যামেরা
একসময় ছবি তোলার জন্য কম্পেক্ট ক্যামেরা ছিল সবার প্রিয়। প্রথম দিকের ফোনক্যামেরা ততটা মানসম্পন্ন না হলেও, আধুনিক স্মার্টফোন আলাদা মেমোরি বা ব্যাটারি ছাড়াই চমৎকার ছবি তোলার সুযোগ দিয়েছে। এআই প্রযুক্তি ও নানান ফিচার যোগ হওয়ায় কম্পেক্ট ক্যামেরা আজ প্রায় হারিয়ে গেছে।
পকেট ক্যালকুলেটর
একসময় স্কুল থেকে অফিস—হিসেব মানেই ক্যালকুলেটর। আজ স্মার্টফোনের ক্যালকুলেটর অ্যাপ বৈজ্ঞানিক, গ্রাফিক্যাল এমনকি প্রতীকী গণিতও সমাধান করতে পারে। ফলে পরীক্ষার হল ছাড়া আলাদা ক্যালকুলেটরের প্রয়োজন পড়ে না।
জিপিএস ডিভাইস
গারমিন বা টমটমের মতো ডেডিকেটেড জিপিএস একসময় ছিল ভ্রমণকারীর ভরসা। কিন্তু স্মার্টফোনের গুগল ম্যাপ লাইভ ট্রাফিক, রিরুটিং আর স্থানীয় তথ্য দিয়ে সেগুলোকে অবসরে পাঠিয়েছে। যদিও বিশেষ যান বা অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণে এখনও আলাদা জিপিএস ব্যবহার হয়।
এমপিথ্রি প্লেয়ার
৯০ দশকের প্রজন্ম এমপিথ্রি প্লেয়ারকে ভালোবেসে বহন করত। এখন স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক বা ইউটিউব মিউজিক স্মার্টফোনে সহজেই সেই জায়গা নিয়েছে। ফলে এমপিথ্রি প্লেয়ার এখন অতীতের স্মৃতি।
অ্যালার্ম ঘড়ি
অফিস, স্কুল বা ইবাদতের জন্য অ্যালার্ম ঘড়ি ছিল নির্ভরযোগ্য। এখন স্মার্টফোনে একাধিক অ্যালার্ম, স্নুজ কাস্টমাইজেশন ও স্লিপ ট্র্যাকারসহ নানা সুবিধা রয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রাতে ফোন দূরে রাখার পরামর্শ দেন।
টর্চলাইট
অন্ধকারে চলাচল বা জরুরি আলোয় স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট যথেষ্ট। তবে পাহাড় বা বনে ভ্রমণে আলাদা টর্চের প্রয়োজন এখনও রয়ে গেছে, কারণ সেক্ষেত্রে স্মার্টফোনের চার্জ ঝুঁকিতে পড়ে।
ভয়েস রেকর্ডার
একসময় সাংবাদিক বা শিক্ষার্থীদের অপরিহার্য ছিল ভয়েস রেকর্ডার। এখন স্মার্টফোনে শুধু রেকর্ড নয়, এআই সাহায্যে সাউন্ড উন্নতকরণ ও টেক্সটে রূপান্তরও সম্ভব।
স্ক্যানার
ছোট কম্পিউটার আকৃতির স্ক্যানারের দিন শেষ। স্মার্টফোনের অ্যাপ দিয়ে এখন দ্রুত স্ক্যান, অটো-ক্রপ আর হাই রেজুলেশনের PDF তৈরি করা যায়।
পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট
পাম পাইলটের মতো ডিভাইস একসময় ক্যালেন্ডার ও নোট ব্যবস্থাপনায় জনপ্রিয় ছিল। এখন ‘হেই সিরি’ বা ‘হেই গুগল’ বললেই স্মার্টফোনে আরও উন্নত সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
ই-রিডার ডিভাইস
কিন্ডলের মতো ডিভাইস এখনও টিকে আছে, বিশেষত দীর্ঘসময় পড়ার জন্য। তবে সাধারণ পাঠকের কাছে স্মার্টফোন এখন মৌলিক ই-রিডার হয়ে উঠেছে।
অতএব, ভিন্ন ভিন্ন গ্যাজেট ভর্তি ব্যাগের দিন শেষ। আজ একটি স্মার্টফোনেই পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তির সুবিধা। যদিও মাঝে মাঝে পুরনো যন্ত্রগুলোকে মনে পড়ে, তবুও স্মার্টফোন প্রযুক্তির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে এক নতুন রূপ দিয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।