তবে এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মিশর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়ে ইথিওপিয়ার এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মিশর জানিয়েছে, রেনেসাঁ বাঁধের কোনো আইনি বা রাজনৈতিক বৈধতা তাদের বা সুদানের জন্য থাকবে না। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার উল্লেখ করেছে, নীলনদে পানির প্রবাহ কমলে তাদের কৃষি, পানীয় জল সরবরাহ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায় গুরুতর প্রভাব পড়বে।
ইথিওপিয়ার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাঁধটি শুধুমাত্র ইথিওপিয়ার লাখো মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ বারবার এই প্রকল্পকে যৌথ উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এটি নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর জন্য কোনো হুমকি নয়।
সুদানের অবস্থান বহু বছর ধরে দোদুল্যমান। তারা আশঙ্কা করছে বাঁধের অযথাযথ ব্যবস্থাপনা পরিবেশের ক্ষতি, বন্যা ঝুঁকি ও নিম্নপ্রবাহের বাঁধগুলোর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে তারা আশা করছে প্রকল্প থেকে সস্তা বিদ্যুৎ এবং সীমান্ত অঞ্চলে পানি নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইথিওপিয়া মিশর ও সুদানের সঙ্গে কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছাড়া বাঁধ চালু করার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন। বিদেশি হস্তক্ষেপ বা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট