আমু-ফারুকসহ সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ‘প্রায় প্রস্তুত’
চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন পেলেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল হবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র।
- আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৬ ১২:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৬ ১২:৩৬:২৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ছয় মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র প্রায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন পেলেই এসব অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে, তাঁরা হলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
প্রসিকিউটর তামীম জানান, তাঁদের প্রত্যেকের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র প্রায় প্রস্তুত। চিফ প্রসিকিউটর অনুমোদন দিলেই তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
আইন সংশোধন ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য
জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় বিচার পরিচালনার স্বার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের বিষয়ে তামীম বলেন, ১৯৭৩ সালের আইনের ৩(১) ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারের বিধান রয়েছে। ২০০৯ সালে আইন সংশোধন করে বেসামরিক ব্যক্তিদেরও বিচারের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করা হয়। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক আইনের আধুনিক সংজ্ঞা ও বিধান যুক্ত করে আইনটি আরও সংশোধন করে।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব সংশোধনের ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং আসামিপক্ষও এর সুবিধা পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই আন্দোলন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের আইনের আওতাভুক্ত নয়, এমন অভিযোগও নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে তদন্ত চলছে
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তামীম বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কোনো রাজনৈতিক দলের এভাবে বিচার হয়নি। দলটির কার্যক্রম থাকা বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য স্থানের তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে তদন্তে সময় লাগবে। তবে তদন্ত শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আদালতে বিচার চলার বিষয়ে তামীম বলেন, প্রচলিত ফৌজদারি অপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ পৃথক বিষয়। আইন অনুযায়ী, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিচার সমান্তরালে চলতে কোনো বাধা নেই।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।