অপ্রতিমের বাবা জানান, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটে তার বাবার মোবাইল সরঞ্জামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেক রয়েছে। ফাহাদ ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেছিলেন তার বাবা মায়ের অনুরোধে। মাস শেষে তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করার পরিকল্পনাও ছিল। অপ্রতিমের সঙ্গে ফাহাদের তেমন কোনো বিরোধ বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে সাইফুল ইসলাম তুহিন তাকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়। পরে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সেখানে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপ্রতিম বাধা দেয় এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা ধার নেওয়াকে কেন্দ্র করেও ফাহাদের সঙ্গে অপ্রতিমের বিরোধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। ফাহাদ অপ্রতিমের কাছ থেকে ওই টাকা ধার নিয়েছিল এবং সম্প্রতি তা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপের মধ্যে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে হত্যার প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টিই পুলিশ জানিয়েছে।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খোঁজা শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা গেলে ফাহাদ তাকে শনাক্ত করেন বলে অপ্রতিমের বাবা জানান। পরে ফাহাদকে তুহিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলা হয়। রাত ১০টার দিকে তুহিন অপ্রতিম তার কাছে আসেনি বলে জানায়। পুলিশের দাবি, ওই সময়ের আগেই অপ্রতিম হত্যার শিকার হয়েছিল।
পরদিন শনিবার সকালে তুহিন ও সিয়াম মোটরসাইকেলে অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তার বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং সান্ত্বনা দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা বলা হলে ফাহাদ শরীর খারাপ লাগার কথা বলে সরে যান।
রোববার পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে এবং পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসানকে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিয়ামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে আদালত ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
বয়স কম হওয়ায় ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।