নতুন পে স্কেলে বেতন-ভাতায় যে ৭ পরিবর্তন আসছে
মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতায় পরিবর্তনের পাশাপাশি ৮ বছরে উচ্চতর গ্রেডের প্রস্তাব
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৭:৩৪:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৭:৩৪:০৬ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২০ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি বেতন-ভাতা ও চাকরির বিভিন্ন সুবিধায় একাধিক পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা এবং উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমায় পরিবর্তন রয়েছে। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে ২০২৪ সালে চালু হওয়া ১০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভেদে ইনক্রিমেন্টের হার আলাদা হবে। ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থাকলেও পঞ্চম গ্রেডে তা ৪ শতাংশ হবে। চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীতেও একই ধরনের কাঠামো রাখা হয়েছে—ক্যাপ্টেন ও সমমর্যাদার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজরে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমান ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে হার ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হতে পারে। তবে মূল বেতন বাড়ার কারণে শতাংশ কমলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাতার প্রকৃত টাকার অঙ্ক বাড়তে পারে।
চিকিৎসা ভাতাতেও পরিবর্তন আসছে। ৫০ বছর পর্যন্ত চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা পাবেন। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনারদের জন্য ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৬ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা।
মোবাইল ফোন ভাতার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা থাকছে। ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা পাবেন। অন্যদিকে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে বর্তমানে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল বিলের পরিবর্তে ৫০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমাতেও পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করার পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৮ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে পদোন্নতি ছাড়া দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পেতে একই গ্রেডে ছয় বছর চাকরির শর্ত বহাল থাকবে। পদোন্নতির সুযোগ নেই এমন ব্লকড পদে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সব ধরনের ভাতা ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে পুরোপুরি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন পে স্কেল চালু হলে ২০২৪ সালে দেওয়া ১০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত বেতন-ভাতা কাঠামোয় একদিকে মূল বেতন ও কয়েকটি নির্দিষ্ট সুবিধা বাড়ানোর কথা বলা হলেও অন্যদিকে কিছু ভাতার হার ও ইনক্রিমেন্টের শতাংশে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর