ফল আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভিটামিন, খনিজ, পানি ও বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদানে সমৃদ্ধ ফল শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আধুনিক সময়ে অনেকেই পুরো ফল খাওয়ার পরিবর্তে ফলের জুস পান করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অনেকের ধারণা, জুস ও পুরো ফলের পুষ্টিগুণ প্রায় একই। বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরো ফল খাওয়া জুসের চেয়ে বেশি উপকারী।
ফলের জুসে সাধারণত ফলের অনেক ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থেকে যায়, কিন্তু ফলের স্বাভাবিক গঠনের কারণে প্রাপ্ত আঁশ অনুপস্থিত রয়ে যায়। এ কারণেই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পুরো ফলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আঁশ বা ফাইবার পুরো ফলের অন্যতম উপাদান গুলোর একটি
ফলের ভেতরে থাকা খাদ্যআঁশ বা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফলের আঁশ অন্ত্রের কার্যক্রমকে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে। জুস তৈরির সময় ফলের শাঁস ও আঁশের একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। ফলে জুস পান করলে সেই গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। এছাড়া আঁশযুক্ত খাবার সাধারণত বেশি তৃপ্তি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ফলের জুস সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। বিশুদ্ধ ফলের জুসেও কিছু ভিটামিন, খনিজ ও উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান থাকে। কিন্তু দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ফল গ্রহণের ক্ষেত্রে জুসের পরিবর্তে পুরো ফলকে অগ্রাধিকার দিলে শরীর সাধারণত বেশি উপকার পেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং স্বাস্থ্য সচেতন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পুরো ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে।
ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ফলকে তার স্বাভাবিক রূপে গ্রহণ করা। এতে ফলের পানি, ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ একসঙ্গে পাওয়া যায়। তাই বিশেষ কোনো প্রয়োজন না থাকলে ফলের জুসের বদলে পুরো ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি ভালো পদক্ষেপ হতে পারে।