পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে গুরুতর আহত মিরাজ খানকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে চাইনিজবার ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে কালিকাপুর একাদশ ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ মুখোমুখি হয়। খেলায় কালিকাপুর একাদশ এক গোলে এগিয়ে ছিল। খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দুই দলের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় কালিকাপুর একাদশের টিম লিডার মিরাজ খানকে মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশের টিম লিডার রাকিব তালুকদারের লোকজন ইট দিয়ে মুখে আঘাত করেন। এতে মিরাজের মুখমণ্ডল গুরুতর জখম হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
আহত মিরাজ খানকে প্রথমে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর মিরাজের বাবা আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় মামলা করেন। মামলার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রতনদীতালতলী ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
খেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা বলেন, চাইনিজবার ফুটবল টুর্নামেন্টে মোট ৩২টি দল অংশ নিয়েছে। বুধবারের ঘটনায় মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশকে দায়ী করে তিনি বলেন, সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।