সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি, মিনিটে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা
৬০ কার্যদিবসে প্রায় ১৯ হাজার ৭০০ মিনিট অধিবেশন, প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ব্যয় ৫ হাজার ৯৪৭ টাকা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন
- ৪ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনে ৬০ কার্যদিবসে অধিবেশন পরিচালনায় সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০৩ কোটি টাকা। অধিবেশনের গড় সময়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা। অর্থাৎ সংসদ এক সেকেন্ড চললেই গড়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৯৪৭ টাকা।
প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। এ সময়ে সংসদ বসে ২৫ কার্যদিবস। এরপর ৭ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন চলে ২৬ কার্যদিবস। তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয় ২৭ আগস্ট এবং শেষ হয় ১০ সেপ্টেম্বর; এতে কার্যদিবস ছিল নয়টি। সব মিলিয়ে তিন অধিবেশনে ৬০ কার্যদিবস সংসদীয় কার্যক্রম চলে।
সংসদ সচিবালয়ের হিসাবে অধিবেশন কত ঘণ্টা চলেছে তার সম্মিলিত হিসাব না থাকলেও অধিবেশন শুরু ও শেষের সময় এবং বিভিন্ন বিরতি বিবেচনায় গড় অধিবেশন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট স্থায়ী হয়েছে। এ হিসাবে তিন অধিবেশনে মোট সময় দাঁড়ায় প্রায় ৩২৮ ঘণ্টা ২০ মিনিট বা ১৯ হাজার ৭০০ মিনিট। প্রতি মিনিটে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা হিসাবে মোট ব্যয় প্রায় ৭০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
এই প্রতি মিনিটের ব্যয়ের হিসাবটি এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ গবেষণার আগের তথ্য থেকে। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২ অধিবেশনে প্রতি মিনিটে গড় পরিচালন ব্যয় ছিল ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয় করলে তা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা।
প্রথম তিন অধিবেশনে সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা এবং বাজেটের সাধারণ আলোচনায় উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়েছে। চলতি বছরের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বর্ষ শুরুর ভাষণের ওপর ৪০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট আলোচনা হয়। এতে ২৮০ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। প্রতি মিনিটের গড় ব্যয় হিসাবে এই আলোচনায় সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা হয় ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট। ৩১৬ জন সংসদ সদস্য এতে অংশ নেন। মোট ২ হাজার ৯৩১ মিনিটের এই আলোচনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
অন্যদিকে আইন প্রণয়নের কাজে ব্যয়ের তুলনায় সময় কম ছিল। প্রথম অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে করা ৯৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টির উত্তর দেওয়া হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য পাওয়া ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়। বাজেট অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়। তৃতীয় অধিবেশনের নয় কার্যদিবসে পাস হয়েছে ছয়টি বিল।
মাত্র নয় কার্যদিবসে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাসের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিল দ্রুত সংসদে পাঠানোর বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের সমালোচনা করে বলেছেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদ সদস্যদের বিল ভালোভাবে পড়ার সুযোগ দিতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।
তবে সংসদের সব ব্যয়কে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম, নোটিশের নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক কাজ এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা সংসদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে দীর্ঘ বিতর্ক, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণ কিংবা অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যেও সংসদের মূল্যবান সময় ব্যয় হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
সময়ের সঙ্গে সংসদ পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী, অষ্টম জাতীয় সংসদে প্রতি মিনিটে পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। নবম সংসদের আটটি অধিবেশনে তা বেড়ে হয় প্রায় ৭৮ হাজার টাকা। দশম সংসদের ১৪তম থেকে ১৮তম অধিবেশনে প্রতি মিনিটের গড় ব্যয় দাঁড়ায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৬ টাকা। একাদশ সংসদের প্রথম ২২ অধিবেশনে তা বেড়ে হয় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণেও প্রতিবছর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। বিশেষ প্রকল্পসহ কোনো কোনো বছর ভবনের ভৌত ও ইলেকট্রোমেকানিক্যাল রক্ষণাবেক্ষণে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। এর সঙ্গে নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, অগ্নিনিরাপত্তা, সম্প্রচার, গণপূর্তের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও ওভারটাইমসহ আরও বিভিন্ন খরচ যুক্ত হয়।
সংসদ বিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ মনে করেন, কার্যকর আইন প্রণয়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া জরুরি। তাঁর মতে, বিলের প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকলে আরও কার্যকর ও টেকসই আইন তৈরি করা সম্ভব।
জাতীয় সংসদের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, শুধু অধিবেশন পরিচালনার ব্যয়ের সঙ্গে সংসদের বার্ষিক বাজেট তুলনা করলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্প্রচার, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। তবে কোন দপ্তরে কত টাকা এবং কোন অধিবেশনে কত ব্যয় হচ্ছে—এ বিষয়ে এখনো সমন্বিত হিসাব হয়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর