ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু ‘জিও ফেন্সিং’
ছয় জেলায় ৬১০ কার্যালয়ের ৯১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প, ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০২:১২:২৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০২:১২:২৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৫ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জিও ফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মস্থলের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান করলেই হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। বর্তমানে ছয়টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’-এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, মাঠ প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়গুলোকে একই ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তথ্যভিত্তিক তদারকি বাড়ানো সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভূমিসেবা কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই ছয় জেলায় ইতিমধ্যে পাইলটিং শুরু হয়েছে। এসব জেলার ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এর আওতায় আনা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার পর পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসে ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
জিও ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ভূমি অফিসের চারপাশে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের একটি ভার্চুয়াল সীমানা নির্ধারণ করা হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মোবাইল ফোনের অবস্থান ওই সীমানার মধ্যে থাকলেই ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ সক্রিয় হবে। ফলে কর্মস্থলের বাইরে থেকে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অ্যাপটির মাধ্যমে অফিসে পৌঁছে চেক-ইন এবং কর্মদিবস শেষে চেক-আউট করা যাবে। একই সঙ্গে ছুটির আবেদনও করা যাবে। কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো কর্মকর্তা অনুমোদিত কারণ ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল সংকেত দেখাবে। তবে সভা, তদন্ত বা সরকারি দায়িত্বে বাইরে যেতে হলে ‘সাইট ভিজিট’ অপশন ব্যবহার করে বের হওয়ার কারণ উল্লেখ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমি কার্যালয়গুলো সরেজমিনে নিয়মিত তদারকি করা সময়সাপেক্ষ। অবস্থানভিত্তিক অনলাইন যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গেলে তদারকি কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মানসম্মত ভূমিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি জানান, পাইলটিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থাটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ভূমি কার্যালয়কে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাইলটিং চলা ছয় জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর