বাস না পেয়ে যাত্রীরা মাহেন্দ্র, ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলারে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। রাজবাড়ীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে এসে অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অভিযোগ, গোল্ডেন লাইনকে রাজবাড়ী রুটে দৈনিক চারটি ট্রিপ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলেও তারা নিয়ম না মেনে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি ট্রিপ চালাচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবহন মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে রাজবাড়ীর পরিবহনগুলো ফরিদপুর রুটে সমান সুযোগ পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।
পরিবহন মালিকদের ভাষ্য, ২০২৩ সালে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গোল্ডেন লাইনকে রাজবাড়ী রুটে চারটি ট্রিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। রাজবাড়ী পরিবহন মালিকদের দাবি, বর্তমানে কোনো কোনো দিন গোল্ডেন লাইনের ২৮ থেকে ৩০টি ট্রিপও চলছে।
রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মাহমুদুল হক জুয়েল বলেন, নির্ধারিত ট্রিপের বাইরে গোল্ডেন লাইনের অতিরিক্ত বাস চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। নির্ধারিত ট্রিপ নিশ্চিত হলে বিরোধের সমাধান সম্ভব।
এদিকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে ফরিদপুরের কোমরপুর এলাকায় রাজবাড়ীর ‘রেখা পরিবহন’-এর একটি বাস আটকে কর্মীদের মারধর, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর পরদিন ফরিদপুরে ‘একতা পরিবহন’-এর এক কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় দুই জেলার বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরুপ রায় অপু জানান, বিরোধ মেটাতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদেরও জানানো হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ও ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই জেলার মালিক সমিতির সঙ্গে প্রশাসনিক আলোচনা চলছে। দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।