গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ২৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা ৭৪ হাজার ৪০৭ জনে পৌঁছেছে।
বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত দৈনিক হতাহতের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল সাতজনের মরদেহ ও ২৩ জন আহতকে গ্রহণ করেছে। উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। চলমান হামলার কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় মোট ৭৪ হাজার ৪০৭ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে মন্ত্রণালয়ের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তা লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১ হাজার ২৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ২২৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তা বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর এবং গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এসব আহ্বানের মধ্যেও উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে।