বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত বছরের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার জেরে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসি এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন বুধবার (১৯ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম।
এ তালিকায় আরও রয়েছেন উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান; সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ।
অন্যদিকে সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম, মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পীর বেতন সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় বিএসইসি। তবে সেটি ছিল পৃথক একটি অভিযোগের ভিত্তিতে।
গত বছরের ৫ মার্চের ঘটনার পর ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হয়। তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রমও শুরু হয়।
এ ঘটনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তদন্ত পরিচালনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএসইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে পৃথক অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির একটি সভা চলাকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ জোরপূর্বক সভাকক্ষে প্রবেশ করে তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় বিএসইসির মূল ফটকে তালা দেওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও লিফট বন্ধ করে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনা ঘটে। এতে সংস্থাটিতে অরাজক ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।