ইরানের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। সম্প্রতি তেহরানে দুই ফরাসি কূটনীতিককে আটকের ঘটনার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্যারিস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারোট।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্যারোট বলেন, তেহরানে ফরাসি দুই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ইরান সরকারের আচরণ ‘অসহনীয়’। তাদের মধ্যে একজন সাংস্কৃতিক অ্যাটাশে ছিলেন। এ ঘটনার পর ইরানকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন তিনি। এবার তারই অংশ হিসেবে ইরানের দুই কূটনীতিককে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই তা কার্যকর করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি। ইরানি শিল্পী আরিয়া কাসায়েই ও এল্লি নাঘিলৌয়ের সঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক প্রকল্প নিয়ে ফ্রান্সের দুই কূটনীতিক বৈঠক করেন। এর কয়েক দিন পর ১৯ জুলাই ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই দুই ফরাসি কূটনীতিক ও দুই শিল্পীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, নাগরিক সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততার আড়ালে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছিলেন। পরে দুই ফরাসি কূটনীতিককে মুক্তি দিয়ে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যতে ইরানে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে আটক হওয়া দুই ইরানি শিল্পীর বর্তমান অবস্থান বা তাদের বিষয়ে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানে বিদেশি নাগরিক ও নাগরিক সমাজের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির অভিযোগের মধ্যেই নতুন করে এই কূটনৈতিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ঘটনা ঘটল।