ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ , ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব ইরানের সেনাপ্রধানের চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই জাহাজের ধাক্কা: বড় ধরনের ক্ষতি নেই জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪৪৩ মিলিয়ন ঘনফুটে ট্রাম্প প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, দাবি গালিবাফের অনুকূল পরিবেশ ছাড়া ভারত সফর নয়, জানাল বাংলাদেশ রাঙামাটির মানিকছড়িতে পিকআপ উল্টে নিহত ৪, আহত ২ কিডনি ও লিভারের জটিল রোগে নিঃস্ব লাখো পরিবার,বাড়ছে অসহায়ত্ব প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, জ্বালানি সংকটে যা বললেন হাসনাত এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শেষ কাল ঢাকা-দিল্লী মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ উপাসনালয়ের সেবকদের সম্মানী দেবেন সরকার মিশিগানে ৫ জনকে গুলি করে হত্যা, সন্দেহভাজনের মরদেহ মিলল বনে বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে: জ্বালানিমন্ত্রী জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করল সামিট এলএনজি টার্মিনাল, কাটছে সংকট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সব ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রী নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই, চড়া দামে চাপে ক্রেতা ১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানীসহ দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা হোয়াটসঅ্যাপে ভুলবশত মুছে যাওয়া বার্তা ও ছবি ফিরিয়ে আনার সহজ উপায় শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে রুশ জাহাজে খাঁচা ও পানির ট্যাংক!

গাজায় টিকে থাকার নতুন লড়াই: ০.৩৩ ডলারের লাইটার বিক্রি হচ্ছে ৩৩ ডলারে!

জ্বালানি গ্যাস সংকটে মাটির চুলার আগুনই ভরসা, প্রবেশে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় লাইটার মেরামতেই ব্যয় হচ্ছে খাবার কেনার অর্থ
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:০২:৩২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:০২:৩২ অপরাহ্ন
  • ৪ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৮ বার পঠিত
গাজায় টিকে থাকার নতুন লড়াই: ০.৩৩ ডলারের লাইটার বিক্রি হচ্ছে ৩৩ ডলারে! ছবি সংগৃহীত
একটি সাধারণ লাইটার—যা সাধারণ সময়ে হয়তো কেউ খেয়ালই করে না—সেটিই এখন অবরুদ্ধ গাজাবাসীর বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের আগ্রাসন ও সর্বাত্মক অবরোধের মুখে গাজা উপত্যকায় রান্না করার গ্যাস ও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে একটি লাইটারের অভাবের অর্থ হলো পরিবারকে না খাইয়ে রাখা। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে অবরুদ্ধ গাজার এই হৃদয়বিদারক চিত্র উঠে এসেছে।
 
অগ্নিসংগ্রাম ও একজন মায়ের গল্প:
 
গাজা সিটির একটি তাবু ভেতরে জীর্ণ এক ছোট লাইটার হাতে বসে আছেন ৪৬ বছর বয়সী রবাব দাইফাল্লাহ। পাঁচ সন্তানের এই জননী কাঠে আগুন ধরাতে বারবার লাইটারটি জ্বালানোর চেষ্টা করছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নতুন লাইটার কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় তাঁর ছেলে পুরানো এই লাইটারটি বেশ কয়েকবার মেরামত করে সচল রেখেছে।
 
রবাবের পুরো দিনটি কাটে আগুন জ্বালানোর সংগ্রাম ঘিরে। কারণ রুটি সেঁকা, পানীয় জল ফোটানো, সন্তানদের জন্য রান্না করা ও চা বানানো—সবকিছুর জন্যই কাঠ পোড়াতে হয়।
 
“আমাদের পুরো দৈনন্দিন জীবন এখন আগুনের ওপর নির্ভরশীল,” আল জাজিরাকে বলেন রবাব। “আর সেই আগুন জ্বালানোর প্রথম ধাপটি শুরু হয় একটি লাইটার দিয়ে। অথচ গাজায় এখন এটিই সবচেয়ে দুর্লভ বস্তু।”
 
যুদ্ধের আগে একটি শেকেলে (প্রায় ০.৩৩ ডলার) তিনটি লাইটার পাওয়া যেত। আর আজ গাজার বাজারে একটি নতুন লাইটারের দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ থেকে ৩৩ ডলার পর্যন্ত! সম্প্রতি নিজের পুরানো লাইটারটি মেরামত করতেই রবাবকে গুণতে হয়েছে ১২ ডলার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি কি এই টাকায় একটি লাইটার ঠিক করব, নাকি এক বস্তা আটা কিনব?”
 
আগুনের স্ফুলিঙ্ক ধার করার দিনকাল:
 
সীমিত সম্বল থাকায় গাজাবাসী খাদ্যসামগ্রী কিনতেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফলে একাধিক তাবুর পরিবারগুলোর মাঝে মাত্র একটি লাইটার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
 
কোনো দিন লাইটার না পেলে রবাবের পরিবারকে ঠাণ্ডা খাবার খেয়েই রাত কাটাতে হয়, অথবা প্রতিবেশীর চুলায় আগুন জ্বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কখনো কখনো তিনি প্রতিবেশীর জ্বলন্ত চুলা থেকে এক টুকরো শক্ত কাগজ জ্বালিয়ে এনে নিজ ঘরে আগুন ধরান। আবার প্রতিবেশীরা রুটি বানানোর সময় তাদের চুলায় নিজের পরিবারের খাবারটুকুর সংস্থান করে নেন।
 
মাটির চুলা ও বাড়তি দুর্ভোগ: 
 
একই পরিস্থিতির মুখোমুখি জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত ৪৩ বছর বয়সী হাসনা মনসুর। ছয় সন্তানের জননী হাসনা পরিবার চালাতে মাটির চুলায় রুটি ও খাবার বানিয়ে বিক্রি করেন।
 
তিনি জানান, রান্না করার গ্যাস থাকলে সামান্য স্ফুলিঙ্গেই আগুন জ্বলে ওঠে। কিন্তু মাটির চুলায় কাঠ বা কাগজ দিয়ে আগুন ধরাতে ভালো আগুনের দরকার হয়। তিনি বলেন, “সকাল থেকে বসে আছি, সকাল ১০টা বেজে গেলেও চুলা জ্বালাতে পারিনি। মেঝ মেয়েকে কাগজের টুকরো দিয়ে পাঠালাম কারোর জ্বলন্ত চুলা থেকে আগুন আনতে, কিন্তু ও কাউকে পায়নি।”
 
অবরোধ ও দ্বিমুখী সংকট:
 
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) এবং গাজা চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের অব্যাহত ক্রসিং অবরোধ ও পণ্য চলাচলে কড়াকড়ির কারণে জরুরি পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। অনেক সাধারণ সামগ্রীকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ “দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য” (সামরিক কাজে ব্যবহারের সুবিধাযুক্ত) হিসেবে চিহ্নিত করায় সেগুলো গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। লাইটারও সেই নিষিদ্ধ বা আটকে দেওয়া পণ্যের তালিকায় রয়েছে।
 
নতুন পেশা, লাইটার মেরামত:
 
এই সংকটের কারণে গাজায় উদ্ভব হয়েছে এক নতুন পেশার। আগে চালক হিসেবে কাজ করা ২৪ বছর বয়সী তামের আল-শাউইশ এখন আল-কারমেল স্কুল ক্যাম্পের পাশে ছোট একটি স্টলে লাইটার মেরামতের কাজ করছেন।
 
তামের বলেন, “যুদ্ধের আগে কেউ লাইটার মেরামতের কথা ভাবতেও পারত না। কারণ এগুলো সস্তা ছিল এবং গ্যাস ফুরিয়ে গেলে ফেলে দিয়ে নতুন কেনা হতো। কিন্তু এখন মানুষ নতুন কিনতে না পেরে মেরামতের জন্য ছোটায়।” নষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন লাইটার থেকে পার্টস খুলে এনে অন্য লাইটার সচল রাখছেন তিনি।
 
গাজা সিটির আল-কারমেল স্কুলে আশ্রয় নেওয়া শাদি আবু শামলা নামের এক বাস্তুচ্যুত পিতা জানান, পুরো আশ্রয়শিবিরে হয়তো মাত্র ৩-৪টি লাইটার সচল আছে। এক তাবু থেকে অন্য তাবুতে হাতবদল হয়ে ঘোরে এই লাইটারগুলো।
 
তিনি আফসোস করে বলেন, “আজকের গাজায় লাইটারই হলো জীবনের মেরুদণ্ড। তাবুতে লাইটার থাকা মানে আপনি টিকে আছেন, না থাকলে আপনি অচল। একটি শিশুর জন্য দুধ গরম করতে গেলেও আপনার আগুন লাগবে। মাঝে মাঝে আগুন না পেয়ে আমাদের না খেয়েই ঘুমাতে হয়।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।