নর্থ কোরিয়াস সিক্রেট ইউএস ওয়ার্কফোর্স’-এ দেখা গেছে, এই কর্মীরা নিয়োগ পাওয়ার জন্য অত্যন্ত সুনিপুণভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আকর্ষণীয় জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) ও কাভার লেটার তৈরি করে। এমনকি ভিডিও ইন্টারভিউ চলাকালীন নিয়োগকর্তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে তারা স্ক্রিনে থাকা ‘চ্যাটজিপিটি’র সাহায্য নেয়। সম্প্রতি নিয়োগকর্তারা বিষয়টি শনাক্ত করতে শুরু করায় তারা এখন এআই-ভিত্তিক ‘ফেস-সোয়াপিং’ বা চেহারা পরিবর্তনের প্রযুক্তির আশ্রয় নিচ্ছে।
পিয়ংইয়ং থেকে সরাসরি মার্কিন কোম্পানির ল্যাপটপ পরিচালনা করা অসম্ভব হওয়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে একদল সহযোগী তৈরি করেছে। এসব আমেরিকান সহযোগীরা টাকার বিনিময়ে তাদের বাড়িতে ‘ল্যাপটপ ফার্ম’ গড়ে তোলে। উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা দূর থেকে (রিমোট অ্যাক্সেস) এসব ডিভাইসে প্রবেশ করে কাজ চালায়। আমেরিকান সহযোগীরা মূলত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, চেক ভাঙানো এবং কখনও কখনও ছদ্মবেশী কর্মীদের হয়ে মিটিং বা ইন্টারভিউতে অংশ নেয়। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি জানান, বার্ষিক ৭৫ হাজার ডলারের চুক্তিতে তিনি কেবল মিটিংগুলোতে হাজির থাকতেন এবং অর্জিত বেতন উত্তর কোরীয়দের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার যাচাই-বাছাই পার হতে উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা সাধারণ আমেরিকানদের পরিচয়পত্র চুরি করে ব্যবহার করে। অনেক সময় তারা একই পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। এর ফলে যাদের পরিচয় চুরি হচ্ছে, তাদের জীবনে নেমে আসছে চরম বিপর্যয়। জর্জিয়ার এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তার তথ্য ব্যবহার করে জালিয়াতি করায় তিনি এখন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন না এবং কোনো ধরনের ঋণ সুবিধাও পাচ্ছেন না।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার এসব আইটি কর্মীর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে তাদের উপার্জিত বেতনের প্রায় ৯০ শতাংশই সরাসরি পিয়ংইয়ংয়ের শাসকগোষ্ঠীর ফান্ডে চলে যায়। হিসাব অনুযায়ী, এই চক্রের মাধ্যমে তারা বছরে প্রায় ৮০ কোটি ডলার সংগ্রহ করছে, যা শেষ পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের অস্ত্র ও সামরিক খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং তাদের বিশাল সামরিক তহবিল সমৃদ্ধ করছে।