যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানই প্রধান মধ্যস্থতাকারী: ইরান
ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ১১:০৭:১৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ১১:০৭:১৭ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১১৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ ও আলোচনায় পাকিস্তানই প্রধান মধ্যস্থতাকারী বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, চীনও এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে, তবে তারা পাকিস্তানের জায়গায় নতুন কোনও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা কমাতে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এ মন্তব্য করল দেশটি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ বলছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব কথা জানিয়েছেন। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার পর সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে চলা এ প্রচেষ্টায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন।
মূলত গত কয়েক মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগে বিভিন্ন প্রস্তাব ও বার্তা আদান-প্রদানে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা ইরান ধারাবাহিকভাবে স্বীকার করে আসছে। এছাড়া কাতার ও ওমানও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরব নিউজ বলছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীন ভূমিকা পালন করছে—এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সংক্রান্ত আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হলো পাকিস্তান। প্রয়োজন হলে কাতারও সহায়তা করে।’
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে ইরানের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত আছে। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে বেইজিংও তেহরানের উদ্বেগের সঙ্গে একমত।
বাঘাই আরও বলেন, ‘চীনও অন্য অনেক দেশের মতো সহযোগিতা করছে। তবে এটিকে নতুন কোনও মধ্যস্থতাকারী যুক্ত হওয়ার ঘটনা বলা ঠিক হবে না।’
এর একদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সাইয়্যেদ আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা নিয়ে তারা আলোচনা করেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সোমবার (৩ আগস্ট) আবারও আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আলোচনার সময় ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এর মধ্যে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অবনতিশীল পরিস্থিতিও নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠকের আয়োজনের পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল দুই পক্ষের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই জুনে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) সই হয়। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিয়ে পরবর্তী আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় জুনে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। সেখানে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।
ওই বৈঠকে উভয় পক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন, কারিগরি প্রক্রিয়া চালু, হরমুজ প্রণালিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা চালু এবং বিস্তৃত সমঝোতার লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ গ্রহণে সম্মত হয়। তবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় এ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নতুন করে চাপে পড়ে। এতে ওই রোডম্যাপ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এর মধ্যেই গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেছেন এবং সোমবার থেকে আবারও আলোচনা শুরু হবে। তবে ইরান ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়। দেশটি বলছে, তারা এখনও আঞ্চলিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের পথেই অটল রয়েছে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনও আলোচনা হচ্ছে না। আমরা এখন হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নিরাপদ নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছি।’
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।