পতেঙ্গা-হাতিয়া-কুতুবদিয়া শিপিং চ্যানেলে জালের জড়ালে মারাত্মক নৌ-ঝুঁকি
অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছের জাল বসানো এবং যত্রতত্র জাহাজ ভেড়ানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবার আশঙ্কা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ০৭:০৯:৩১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ০৭:০৯:৩১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১২৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
পতেঙ্গা থেকে হাতিয়া হয়ে কুতুবদিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত শিপিং চ্যানেলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছের জাল বসানোয় তৈরি হয়েছে মারাত্মক নৌ-ঝুঁকি। বিশেষ করে আলফা, ব্রাভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
প্রপেলারে জাল আটকে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে জাহাজডুবির শঙ্কার সঙ্গে আছে জলদস্যুর আতঙ্ক। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এমএসসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘কমপ্লেইনটা পাই। তারা ম্যানুভার করতে পারছে না, তারা মুভ করতে পারছে না। কারণ হচ্ছে, অতিমাত্রায় ফিশিং নেট এবং যত্রতত্র জাহাজ অ্যাংকার করা রয়েছে সেখানে। বিশেষ করে যখন ইভিনিং টাইম হয়, সেলিং টাইম হয়, তখন তো বিপদ অন্যরকম।’
বন্দরের বহির্নোঙরে ২৪ ঘণ্টা পণ্য খালাস হয়। জালের আতঙ্কে রাতে নৌচলাচল ব্যাহত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের ওপর। এতে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ।
নিজেদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে লাইটার মাস্টাররা বলেন, ‘বন্দরের বহির্নোঙরে ২৪ ঘণ্টাই পণ্য খালাস হয়। জালের আতঙ্কে রাতে নৌচলাচল ব্যাহত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের ওপর। এতে শিপিং লাইনগুলোকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ।
এই জাহাজটা যে জালগুলো কেটে যায়, সেই জাহাজটাই আবার লোড করব, বা লোড করে ঘাটে নিয়ে আসব—এ রকম পরিস্থিতি থাকে না। আমরা যখন ফাঁকা অবস্থায় চলাচল করি, তখন জালের অনেক মোটা রশি সেখানে থাকে। যখন সেগুলো প্রপেলারের সঙ্গে বেঁধে যায়, তখন আমাদের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়।’
দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, ‘আন্ডারওয়াটার অপারেশন বা কোনো ধরনের কিছু টানা, যেটাকে ড্র্যাগিং বলে—এ ধরনের অপারেশন অনেক সময় হয়ে থাকে। অনেক জায়গায় এটা রয়েছে। আমাদের এখানেও বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনও ব্যাপারটা চূড়ান্ত হয়নি।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্দর ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আগেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।