ইসরায়েলের সাথে সিরিয়ার যুদ্ধ অনিবার্য, লিকুদ মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ১০:৩২:০০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ১০:৩২:০০ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৭১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির একজন শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল আজ হোক বা কাল সিরিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়াবে। চলতি সপ্তাহে দেওয়া একাধিক রেডিও সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি এই মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন উগ্র সুন্নি অশুভ অক্ষ গড়ে উঠছে বলে দাবি করেছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
মন্ত্রী চিকলি সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ-এর সরকারকে ইঙ্গিত করে বলেন, আইএস এবং আল-কায়েদার আদর্শে বিশ্বাসী একটি জিহাদি শাসনব্যবস্থা, যাদের মূল লক্ষ্য জেরুজালেম দখল করা, তারা কখনোই ইসরায়েলের পাশে শান্তিতে বসবাস করতে পারে না। গতকাল ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং কাতারকে নিয়ে গঠিত এই নতুন জোট এখন ইরানের চেয়েও ইসরায়েলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পেছনে পাকিস্তান ও তুরস্ক বড় ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি একে ইসরায়েলের স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেন।
অন্য একটি সাক্ষাৎকারে কাতারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লিকুদ পার্টির এই মন্ত্রী বলেন, কাতার মূলত জিহাদিদের জনসংযোগ শাখা বা পিআর উইং হিসেবে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক যথাক্রমে ভারতের এবং গ্রিস ও সাইপ্রাসের শত্রু দেশ, অথচ এই রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। ফলে তুরস্ক, কাতার এবং পাকিস্তানের এই উত্থানকে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক উগ্র সুন্নি অশুভ অক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চিকলির এই মন্তব্য তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। সম্প্রতি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেছিলেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং ইসরায়েলকে থামাতে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। এর জবাবে ইসরায়েলি মন্ত্রী বলেন, তুরস্ক মূলত সিরিয়ায় নিজেদের একটি করদ রাজ্য বা প্রভাব বলয় তৈরি করেছে, যা ইরানের চেয়েও দশ হাজার গুণ বেশি উদ্বেগজনক।
অবশ্য তুরস্ককে শত্রু ভাবার ক্ষেত্রে চিকলি একাই প্রথম ইসরায়েলি নেতা নন। গত সপ্তাহে লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা আরিয়েল কেলনার তুরস্ককে সরাসরি একটি শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার দাবি তোলেন। এছাড়া গত মাসে ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী মিকি জোহার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও তুরস্ককে নতুন ইরান বলে আখ্যা দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর ইসরায়েল কোনো শান্তির সময় পার করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আমিচাই চিকলি বলেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদী শান্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, শত্রু যখন কিছু বলে, তখন তা হালকাভাবে না নিয়ে গুরুত্ব সহকারে শোনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।