ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ কার্যদিবসে ঐতিহাসিক রায়: শিশু রামিসা হত্যায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড সুদানের বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১১ পুশইন ঠেকাতে সিলেট সীমান্তে বিজিবির ‘হাই অ্যালার্ট’, রাতে জনপদে মাইকিং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের ৩ ট্যাংকার লাইনচ্যুত: খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ গাজায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৫ মেট্রোরেলের সময় বাড়ছে আরও ২০ মিনিট, নতুন সূচি আজ থেকেই কার্যকর পুশইন রুখতে বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে মোতায়েন হলো আনসার-ভিডিপি পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ মালয়েশিয়ায় পাচারকালে রোহিঙ্গাসহ উদ্ধার ৫০, আটক ৯ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুতের দাম বাড়লেও ৬৫ শতাংশ গ্রাহক পাচ্ছেন ছাড় সাতক্ষীরায় ২০৭ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক সীমানা পিলার উদ্ধার, গ্রেফতার ৪ কুয়েত-বাহরাইনে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরানের দেশে ফিরেছেন ৩২ হাজার ৮৩২ হাজি, সৌদিতে মারা গেছেন ৪৮ জন যুদ্ধের পর প্রথম রিপোর্ট: ইরানের মজুদ ইউরেনিয়ামের হদিস পাচ্ছে না আইএইএ বিস্ফোরণে ওমানের প্রধান তেল টার্মিনালে লোডিং কার্যক্রম স্থগিত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৫ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার সৌদিতে হজ পালনে গিয়ে আরও ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল ভালুকা

৫ কার্যদিবসে ঐতিহাসিক রায়: শিশু রামিসা হত্যায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

  • আপলোড সময় : ০৭-০৬-২০২৬ ১২:৪০:০৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-০৬-২০২৬ ১২:৪০:০৩ অপরাহ্ন
৫ কার্যদিবসে ঐতিহাসিক রায়: শিশু রামিসা হত্যায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।

রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।

এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু।

রায়ের পর দুলু বলেন, “এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।

বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ডের রায় আসে।

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর স্বপ্নাকেও পাঠানো হয় কারাগারে।

ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনাটি সারাদেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। আশ্বাস দেন, বিচার দ্রুত শেষ করার।

ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুরে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। ঢাকার মহানগর হাকিম আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন।

বিকালেই নথি পাঠানো হয় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে। সেদিনই বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন রাখেন ১ জুন।

মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়।

আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২ জুন দিন রাখা হয়। সেদিন ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

পরদিন ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানিতে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। বিচারক তাদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী না নির্দোষ।

উত্তরে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সোহেল রানা ক্ষমা চান। বলেন, “স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই।”

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।

গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে ‘স্টাডি’ করুন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকারের পরামর্শ

প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে ‘স্টাডি’ করুন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকারের পরামর্শ