দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে এই সমস্যা মানুষের দুর্ভোগকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
অনেক এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো টানা অনেকক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে। গরমে ফ্যান না চলায় ঘরে থাকা প্রায় অসহ্য হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে যারা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তারা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়ার সময় নষ্ট হচ্ছে এবং মানসিক চাপও বাড়ছে। কৃষি খাতে এর প্রভাবও উদ্বেগজনক। সেচের জন্য বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। ফলে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। এতে করে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অবস্থাও শোচনীয়। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাটে আলো জ্বালানো, ফ্রিজ চালানো, মেশিন পরিচালনা কিংবা অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই জেনারেটর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, কিন্তু জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্য রয়েছে। শহরে তুলনামূলক কম লোডশেডিং হলেও গ্রামে এর প্রভাব অনেক বেশি। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নিজেদের অবহেলিত মনে করছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ালে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও অপচয় রোধ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এই সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে। সর্বোপরি, গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে লোডশেডিং সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান এখন বড় দাবি।
ডেস্ক রিপোর্ট