কোটি টাকা ব্যয়েও বর্ষায় ডুবে ঢাকা, সমাধান কোথায়
ড্রেন নির্মাণ ও পরিষ্কারে ব্যয় বাড়লেও জলাবদ্ধতা কমছে না, প্রশ্ন বাস্তবায়নে
- আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১০:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৩:৫৪:২৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বর্ষা মৌসুম এলেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, যদিও ড্রেন নির্মাণ, সংস্কার ও পরিষ্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তবুও প্রতি বছর একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থায়ী সমাধান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
একসময় খাল ও জলাধারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সহজে নদীতে নেমে যেত, কিন্তু এখন কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। গবেষকদের মতে, অতিবৃষ্টির চেয়ে বড় কারণ হলো পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া। খাল, ড্রেন ও জলাধারের সংযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পানি আটকে থাকে শহরের ভেতরেই।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ড্রেন নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮০০ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে জুন পর্যন্ত প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই অর্থে নতুন ড্রেন নির্মাণ, পুরোনো ড্রেন সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বেশিরভাগই ব্যয় হয়েছে। এছাড়া নর্দমা, খাল ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের জন্য বরাদ্দ ৪০ কোটির মধ্যে প্রায় ২৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, বর্ষার সময় উন্নয়নকাজের কারণে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে ড্রেনে ময়লা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তাদের মতে, শুধু বাজেট বরাদ্দ নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, খাল পুনরুদ্ধার এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করাই এখন অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, পলিথিন ব্যবহার বন্ধ না হলে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। চলমান প্রকল্পগুলোর সুফল পেতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং খালগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে বিদ্যমান ড্রেনেজ অবকাঠামোর কার্যকারিতা বাড়বে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু ড্রেন নির্মাণ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার এবং অতিরিক্ত রিটেনশন এরিয়া তৈরি জরুরি। এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে বৃষ্টির পানি সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।
প্রতি বর্ষায় তাই একই প্রশ্ন ফিরে আসে, কেন ডুবে যায় ঢাকা। এর উত্তর খুঁজতে হলে কার্যকর নগর পরিকল্পনা, খাল পুনরুদ্ধার এবং সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।