দেশে হঠাৎ তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি এবং আবাসিক গ্রাহকদের চুলায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় পরিবহন, গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে ভোগান্তি বাড়ছে।
গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর বেশিরভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও চাপ কম, কোথাও আবার গ্যাস না থাকার নোটিশ ঝুলছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের, যার প্রভাব পড়ছে তাদের আয়-রোজগারে। একই সঙ্গে আবাসিক গ্রাহকেরা কম চাপের গ্যাসে রান্না করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে সরবরাহ কমে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা সামগ্রিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকেরাও কম গ্যাস পাচ্ছেন। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল সাময়িক ত্রুটি নয়, দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অগ্রগতির অভাবও এই সংকটের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, গ্যাস সংকট নিরসনে দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই সমাধানের জন্য সিস্টেম লস কমানো, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।
ডেস্ক রিপোর্ট