আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার আইএমএফ-এর প্রকাশিত সর্বশেষ বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে রাশিয়ার জিডিপি ১.১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। যা জানুয়ারির পূর্বাভাসের তুলনায় ০.৩ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পণ্যের উচ্চমূল্যের’ কারণেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই ‘গতি’ ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আইএমএফ আরও জানিয়েছে, চলতি বছর রাশিয়ার মুদ্রাস্ফীতি ৫.৬ শতাংশ হবে, যা ২০২৫ সালের ৮.৭ শতাংশ থেকে কম। ২০২৭ সালে তা আরও কমে ৪.৩ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় আরও আশাবাদী। তারা ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২.৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
আইএমএফ-এর এই সংশোধিত পূর্বাভাস এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ ও তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এই সংঘাত কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জ্বালানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ নির্ভর করে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর।
আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি ‘বড় ধরনের জ্বালানি সংকট’ ডেকে আনতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা বিশেষভাবে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ তাদের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে এনেছে। সংস্থাটি এখন আশা করছে, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১ শতাংশ হারে প্রসারিত হবে, যা আগের পূর্বাভাস (৩.৪ শতাংশ) থেকে কম। ২০২৭ সালে তা কিছুটা বেড়ে ৩.২ শতাংশ হতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি ও ডলারের দুর্বলতারও আভাস দিয়েছে আইএমএফ।
ইউরো অঞ্চলের জন্যও পূর্বাভাস কমিয়েছে তহবিলটি। তাদের মতে, এই মন্দা ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব’ প্রতিফলিত করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের ‘দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব’-এর সঙ্গে এই সংকট যুক্ত হয়ে ইউরোপে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।
আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে এক ‘বড় ধরনের আঘাত’ এনেছে। তিনি জানান, বিশ্বের তেল উৎপাদন ইতিমধ্যে ১৩ শতাংশ কমে গেছে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি নয়, পণ্য ও সারের মতো বিভিন্ন খাতেও পড়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আইএমএফ, বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের কালো মেঘ
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০১:১৩:৫৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০১:১৩:৫৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর