জবানের অনিষ্ট ও নিয়ন্ত্রণ: হাদীসের আলোকে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৮:৩০:১৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৮:৩০:১৬ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৬১ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
আল্লাহ মানুষকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। মনের ভাব প্রকাশ করার ভাষা দিয়েছেন। এ মানুষের প্রতি আল্লাহর এক মহা দান। পৃথিবীতে এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়, যারা এ নিআমত থেকে চিরবঞ্চিত। সুতরাং যাদেরকে আল্লাহ এ নিআমত দান করেছেন তাদের উচিত এর যথাযথ ব্যবহারের প্রতি যত্নবান হওয়া।
আল্লাহর এ নিআমতকে মানুষ তার ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারে- এ শক্তি আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন। এখন মানুষ তার এ শক্তিকে ভালো কাজে ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে; অথবা মন্দ কাজে ব্যয় করে আল্লাহর অসন্তুষ্টির পাত্রে পরিণত হতে পারে।
অমরা যাতে আল্লাহর দেয়া এ নিআমতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করে আল্লাহর প্রিয়পাত্র হতে পারি, জবানের অনিষ্ট থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি- এজন্য নবীজী আমাদের এ বিষয়ে অগণিত নির্দেশনা দিয়েছেন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الجَنَّةَ .
যে আমাকে তার দুই চোয়ালের মাঝের অঙ্গ অর্থাৎ জবান এবং দুই পায়ের মাঝের অঙ্গের (সঠিক ব্যবহারের) যামানত দিবে আমি তার জন্য জান্নাতের যামিন হব। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৪৭৪
জবানের নিয়ন্ত্রণ
উকবা ইবনে আমের রা. একবার নবীজীকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসূল! নাযাত কীসে? নবীজী উত্তরে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি উল্লেখ করলেন তা হল-
أمْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ.
তুমি তোমার জবানের নিয়ন্ত্রণ কর। (দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৪০৬)
ধ্বংস ডেকে আনে জবান
নবীজীর প্রিয় সাহাবী মুআয ইবনে জাবাল রা. বলেন, একবার নবীজীর সাথে কোনো এক সফরে ছিলাম। পথিমধ্যে নবীজীকে একান্তে পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
يَا رَسُولَ اللهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلنِي الجَنَّةَ وَيُبَاعِدنِي عَنِ النَّارِ.
আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে।
(তখন নবীজী তাকে দীর্ঘ উপদেশ দিলেন, এক পর্যায়ে বললেন,)
أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمَلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟ قُلْتُ: بَلَى يَا نَبِيَّ اللهِ، فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ قَالَ : كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا، فَقُلْتُ : يَا نَبِيَّ اللهِ! وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ؟ فَقَالَ : ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ.
এ সবকিছুর মূল কী- আমি কি তোমাকে বলে দিব? আমি বললাম, জী, আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি নিজের জিহ্বা ধরে বললেন, এটাকে সংযত কর। এ কথা শুনে আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের কথাবার্তার জন্যও জিজ্ঞাসিত হব? নবীজী বললেন, আরে! জবানের কামাই-ই তো মানুষকে অধঃমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে! -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬১৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৯৭৩
হাঁ, জবানের অনিষ্ট এত ব্যাপক, তা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে ফেলে। বে-পরোয়াভাবে মানুষ যা ইচ্ছা তা-ই বলতে থাকে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির পাত্রে পরিণত হয়। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ العَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ، لاَ يُلْقِي لَهَا بَالًا، يَرْفَعُهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَاتٍ، وَإِنَّ العَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ، لاَ يُلْقِي لَهَا بَالًا، يَهْوِي بِهَا فِي جَهَنَّمَ.
বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কথা বলে, যেদিকে সে খেয়ালই করে না, কিন্তু এর কারণে আল্লাহ তার মর্যাদাকে সমুন্নত করেন। আবার বান্দা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করার মত কথা বলে, যেদিকে সে ভ্রুক্ষেপই করে না; কিন্তু তা তাকে জাহান্নামে নিয়ে পৌঁছায়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৪৭৮
সংগৃহীত - মাওলানা মুহাম্মাদ ফজলুল বারী ( মাসিক আল কাউসার ওয়েবসাইট)
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।