প্রবাসী আয়ে জোয়ার বইছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই (জুলাই-জানুয়ারি) দেশে ১৯.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া নানামুখী উদ্যোগের সুফল মিলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরগুলোতে রেমিট্যান্স আহরণে একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একক মাসে সর্বোচ্চ। এর ঠিক পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটি আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, যার পরিমাণ ছিল ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের জানুয়ারিতে দেশে ২.১৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা চলতি বছরের প্রবাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের আয়ের ওপর প্রণোদনা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও জানান, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রবাসীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনছে। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এবং আমদানির দায় মেটাতে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ডেস্ক রিপোর্ট