চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে, যদিও একই সময়ে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় কমেছে। এতে বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মার্চ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে আসল বাবদ বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে ১২৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে মোট ঋণ পরিশোধ দাঁড়িয়েছে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে।
অন্যদিকে, এ সময় নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ২৮০ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ও প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের এই সময়ে মোট অর্থছাড় হয়েছে ৩৮৯ কোটি ১৮ লাখ ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৪৮০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।
উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থছাড় করেছে রাশিয়া, যার পরিমাণ ৮২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। এর পর রয়েছে বিশ্বব্যাংক (৪৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (৬০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার), চীন (৫২ কোটি ১২ লাখ ডলার) এবং জাপান (৩১ কোটি ২৮ লাখ ডলার)।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থছাড় ও নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার বিপরীতে ঋণ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বাজেট ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট