মেজর জেনারেল রাবে আবুবাকার ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সামরিক মুখপাত্র হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। গত মাসে কাটসিনা রাজ্যে ভ্রমণের সময় তার স্ত্রীসহ অপহৃত হন। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই অপহরণের দায় স্বীকার করেনি।
আবুবাকারের অপহরণ ও মৃত্যু নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় চলমান নিরাপত্তা সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে। সেখানে স্থানীয়ভাবে ‘দস্যু’ নামে পরিচিত অপরাধী চক্রগুলো প্রায়ই মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, গবাদি পশু চুরি এবং গ্রামীণ জনপদে হামলা চালায়। এই অঞ্চলে কিছু জিহাদিও গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। এই সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে কাটসিনা অন্যতম।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত ৩০ মে অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা একটি বিয়েতে যাচ্ছিলেন। তখন সশস্ত্র ব্যক্তিরা তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে, তার স্ত্রী ও তাদের চালককে আটক করে।
তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের কয়েকদিন আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে আবুবাকারকে বন্দিদশায় দেখা যায়। ভিডিওটিতে তাকে তার স্ত্রী ও অন্যান্য জিম্মিদের পাশে দেখা যায়। তার বাম পায়ে স্পষ্ট আঘাতও দেখা যাচ্ছিল।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বন্দিদের মুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে, এ কারণে তারা অপহরণের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান উদ্ধার অভিযানকে গুরুত্ব দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
তারা আবুবাকারের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছিল।’
আবুবাকারের স্ত্রীর অবস্থান ও অবস্থা এখনও অজানা। তবে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে এবং আমাদের জাতিকে হুমকিদানকারী সমস্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে নির্মূল করতে চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।’
সেনাবাহিনী মেজর জেনারেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। সেনাবাহিনী এই ক্ষতিকে দুঃখজনক বলে বর্ণনা করেছে এবং তার পরিবার ও সাবেক সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তিনি বিদ্রোহ দমন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা এবং নাইজেরিয়ার ঐক্য রক্ষায় তার অঙ্গীকার সবার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
ডেস্ক রিপোর্ট