জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারীদের নিয়ে দেওয়া মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ আলেম সমাজ।
এক বিবৃতিতে আলেমরা বলেন, জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। সেখানে উচ্চারিত প্রতিটি বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে রাষ্ট্রের অবস্থান এবং দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়। এমন জায়গায় হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারীদের নিয়ে কৌতুক, সন্দেহ কিংবা বিদ্রূপাত্মক ইঙ্গিত অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও আপত্তিকর।
তারা বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যার মাধ্যমে হিজাবধারী নারীদের পরিচয় ও উপস্থিতিকে সন্দেহের চোখে দেখানো হয়েছে। অথচ জাতীয় সংসদ এমন একটি স্থান, যেখানে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই ও আনুষ্ঠানিক প্রটোকল কার্যকর থাকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে বোরকার আড়ালে ‘অন্য কেউ’ থাকার ইঙ্গিত বাস্তবতাবিবর্জিত। পাশাপাশি এমন বক্তব্য পর্দানশীন নারীদের প্রতি অযৌক্তিক সন্দেহ ও সামাজিক অপমানের পরিবেশ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি সংসদ সদস্যের ধর্মীয় পরিচয়কে হেয়প্রতিপন্ন করার শামিল।
আলেমরা বলেন, একজন নারীর বোরকা ও হিজাব পরার অধিকার কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়। এটি তার ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংবিধানিক স্বাধীনতা ও নাগরিক মর্যাদার অংশ। একজন নারী তার ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী পোশাক পরবেন, এই অধিকারকে কৌতুক, বিদ্রূপ কিংবা সন্দেহের বিষয়ে পরিণত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তারা বলেন, হিজাব ও নিকাব বাংলাদেশের লাখ লাখ নারীর ধর্মীয় পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও জীবনাচারের অংশ। তাই পর্দানশীন নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ইঙ্গিত, সন্দেহ কিংবা হাস্যরস শুধু তাদের পোশাককে নয়, বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতিকেও আঘাত করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো তাদের এ অধিকারকে সম্মান করা, নিরাপদ রাখা এবং মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করা। হিজাব ও নিকাব পালনকারী নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তাদের নাগরিক ও মানবিক অধিকার।
আলেম সমাজ জানায়, সংসদের ভেতরেই স্পিকার বিষয়টিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক আপত্তি জানিয়েছেন। বিষয়টিকে সংসদীয় মূল্যবোধ রক্ষায় দায়িত্বশীল অবস্থান হিসেবে দেখছেন তারা।
তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আলেম সমাজ। তারা বলেন, ভবিষ্যতে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় অনুশীলনকে বিদ্রূপ কিংবা সন্দেহ করার সংস্কৃতি যেন প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা না পায়, সে জন্য মন্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে জাতির কাছে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ এবং পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তারা।
আলেমরা বলেন, দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মর্যাদা ভুল অস্বীকার করার মধ্যে নয়, বরং ভুল সংশোধনের মধ্যেই প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো নারীকে তার ধর্মীয় পরিচয় কিংবা পোশাকের কারণে অপমানিত হতে হবে না, সন্দেহের চোখে দেখা হবে না এবং তার ঈমানি চর্চাকে বিদ্রূপের উপাদানে পরিণত করা হবে না। ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক মর্যাদা ও মানবিক সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
‘বোরকার আড়ালে অন্য কেউ থাকার ইঙ্গিত বাস্তবতাবিবর্জিত’: সংসদে হিজাব নিয়ে মন্তব্যে আলেম সমাজের তীব্র ক্ষোভ
- আপলোড সময় : ১৫-০৬-২০২৬ ০৪:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৬-২০২৬ ০৪:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট