মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের জেরে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে রাজধানীসহ দেশজুড়ে
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০১:৪৯:০৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০১:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৭১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে মেরামতকাজ শুরু হলেও চলতি মাসে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই, ফলে সহসাই কাটছে না দেশের গ্যাস সংকট।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালের বয়লার থেকে বের হওয়া সিগন্যালবাহী বৈদ্যুতিক তারে শর্টসার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বর্তমানে বিদেশি প্রকৌশলীরা মেরামতে কাজ করছেন। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে সরবরাহ হয় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট এবং মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। ঘাটতি এখন প্রায় ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে তবে এ মাসের মধ্যে টার্মিনাল ঠিক হবে না, আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
গ্যাস সংকটের ফলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চুলায় গ্যাস থাকছে না। রাজধানীর মগবাজারের গৃহিণী পারভীন বলেন, সারাদিনই চুলায় কোনো গ্যাস থাকে না, উপায় না পেয়ে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, চুলায় গ্যাসের চাপ এতই কম যে রান্না বসালে এক ঘণ্টাতেও শেষ হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে অনেকে সিলিন্ডার ও ইনডাকশন চুলার দিকে ঝুঁকছেন, যদিও তাতে খরচ দ্বিগুণ বাড়ছে।
তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১৯০ কোটি ঘনফুট হলেও এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় তা ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। টার্মিনাল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।
সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি পড়ছে। সিএনজিচালক মো. আল আমিন বলেন, যে স্টেশনেই যাচ্ছি সেখানেই বলা হচ্ছে গ্যাস নেই। আরেক চালক মো. কাউছার জানান, দৈনিক ট্রিপের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় ট্রিপ কমাতে হচ্ছে, ফলে উপার্জনও কমে যাচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন বলেন, আমদানি করা জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দেওয়া ছাড়া এ সংকট থেকে বের হওয়ার বিকল্প নেই। সরকার নতুন কূপ খননে উদ্যোগ নিয়েছে, তবে আরও আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।