বর্তমান সরকার জনগণের জন্য আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সব পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধ, রোগনির্ণয় সেবা এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করতে না পারার পেছনে শুধু অর্থের অভাব নয়, প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতাও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। গবেষণায় উঠে আসা এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে পরিকল্পনাহীনভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালের ক্রয় কার্যক্রমে অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ২০২০ সালের পর হাম প্রতিরোধে কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকা সংগ্রহের পরিবর্তে বেসরকারি উপায়ে কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল বলেও দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সেখানে ফিজিওথেরাপি, প্যাথলজি ও আইসিইউ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ডেস্ক রিপোর্ট