‘আল-আরাবি আল-জাদিদ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, ওমানে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে হরমুজ প্রণালির নতুন নৌ-পথ ঘিরে মূল আলোচনা হবে। ওমান সালতানাতের সাথে হওয়া এই চুক্তিকে কোনোভাবেই সমুদ্রপথটিকে খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।
তিনি আরও জানান, মাস্কাটের সাথে হওয়া চুক্তির বিস্তারিত বিষয় এবং নতুন নৌ-পথ সংক্রান্ত মানচিত্র সম্পর্কে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অবহিত করা হবে। আরাকচি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণাণি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর আওতায় তাদের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওমানের এই আলোচনা আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। এই কূটনৈতিক জোর দিয়ে বলেন, ইরান বিশ্বাস করে, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেরাই তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য দায়ী। আর টেকসই নিরাপত্তা তখনই অর্জন করা সম্ভব, যখন এই অঞ্চলের দেশগুলো কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই অভিন্ন বিষয়গুলোতে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।
আরাকচি স্পষ্ট করেন, ওমানের এই বৈঠকের লক্ষ্য কোনো নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা নয়; তবে তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন, যা পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান বিশ্বাস করে এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং আরব দেশটির ভবিষ্যৎ ইয়েমেনের জনগণকেই আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। আরাগচি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ হস্তক্ষেপকে দায়ী করেন বলেন, এই জলপথে নিরাপত্তার অভাবের পেছনে ওয়াশিংটনের আচরণই প্রধান কারণ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে নৌ-চলাচলের একটি কাঠামো বা রূপরেখা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে সেই ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করতে আগামীকাল ওমানে আঞ্চলিক আরব রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের আগ্রাসন ও হামলা বন্ধ করে, তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই নৌপথ উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা করতে ইরান প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি-ও জানিয়েছেন, এই আঞ্চলিক বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে; এতে ইরান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী অন্যান্য রাষ্ট্র অংশ নেবে। তিনি জানান, অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ তৈরির বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ফলাফল নিয়েও আলোচনা করবেন।
বাকায়ি জোর দিয়ে বলেন, যদিও ইরান এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড এবং নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধসহ অন্যান্য অবৈধ হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।