সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের নিজস্ব বিরোধ রয়েছে এবং এ কারণে ইরান সৌদির বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে জড়িত নয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ করছে না। হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যে বিরোধ, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত এড়াতে সবাইকে আলোচনায় বসে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ইরানের রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যমে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ইরানের বিভিন্ন মহল হুথিদের এই সাফল্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড় অর্জন হিসেবেও তুলে ধরছে।
হুথিরা মূলত জাইদি শিয়া মুসলিমদের সংগঠন। ২০১৪ সালে পশ্চিমা ও সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর তারা রাজধানী সানা দখল করে এবং এরপর থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের জন্য লড়াই চালিয়ে আসছে।
গত শুক্রবার মোখা বন্দরনগরী পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে হুথিরা। এর ফলে লোহিত সাগর উপকূলে ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের এই অগ্রগতিকে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ‘আল্লাহর দেওয়া জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুথিদের দীর্ঘদিনের লড়াই ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফও হুথিদের সাম্প্রতিক সাফল্য নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এ সময় তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ২০২৪ সালের একটি বক্তব্য তুলে ধরেন, যেখানে হুথিদের প্রতিরোধ তাদের বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ রেজা আরেফ হুথিদের সাফল্যে সরকারের সন্তুষ্টির কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।