হিমাগার না থাকায় শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের কৃষকের ফসল নিয়ে বাড়ছে লোকসান
সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মৌসুমে কম দামে ফসল বিক্রি করছেন কৃষক
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০২:০৩:১৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০২:০৩:১৪ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে বছরজুড়ে নানা ধরনের সবজি, ফলমূল ও আলু উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম দ্রুত কমে যায়। তখন পচে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন।
চা-বাগানঘেরা এ দুই উপজেলার পাহাড়ি ঢাল, উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া কৃষির জন্য বেশ উপযোগী। কমলগঞ্জের আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, ইসলামপুর ও রহিমপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে টমেটো, করলা, শিম, লেবু, আলু, আনারসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকাতেও বাণিজ্যিকভাবে নানা কৃষিপণ্য চাষ করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি, উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হোক। কৃষকদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে একাধিকবার উদ্যোগ ও প্রস্তাবের কথা শোনা গেলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
কমলগঞ্জের টমেটোচাষি আব্দুল মতিন বলেন, পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে দাম কমে গেলে তাদের কিছু করার থাকে না। হিমাগার থাকলে ফসল কিছুদিন রেখে পরে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হতো।
আরেক কৃষক করিম মিয়া বলেন, মৌসুমে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ টমেটো বাজারে আসায় দাম পড়ে যায়। হিমাগার থাকলে তাৎক্ষণিক বিক্রি না করে কিছুদিন সংরক্ষণ করা যেত এবং এতে কৃষক ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ পেতেন।
হিমাগারের অভাবে আলুচাষিরাও সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আলুবীজ সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় প্রতি মৌসুমে অন্য জেলা থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বাইরের বাজারের ওপর নির্ভরশীলতাও তৈরি হচ্ছে। কৃষকদের মতে, স্থানীয় আলু সংরক্ষণ করা গেলে পরবর্তী মৌসুমে বীজ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাজারদর কম থাকলে আলু রেখে পরে ভালো দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে দাম ও মান দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। টমেটো, করলা ও শিমের মতো পচনশীল সবজির ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। পর্যাপ্ত পরিবহন ও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় উৎপাদনের অল্প সময়ের মধ্যেই এসব পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হতে শুরু করে।
কৃষকদের ভাষ্য, উৎপাদনের মৌসুমে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় তারা অনেক সময় পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। হিমাগার থাকলে কৃষকের হাতে ফসল বিক্রির জন্য বাড়তি সময় থাকবে এবং বাজারদর বিবেচনা করে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে হিমাগার নির্মাণের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন ও প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক নানা প্রক্রিয়ায় বিষয়টি এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, লেবু, আনারস ও মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তারা জানেন। শ্রীমঙ্গলে হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি হিমাগার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, কমলগঞ্জে হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি বেশ কিছুদিন আগেই জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কৃষকদের স্বার্থে জেলায় হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরা হচ্ছে। এটি স্থাপন করা গেলে কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমার পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়া, কৃষকের লোকসান কমানো এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর